আফগান প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ‘তালেবান নিয়ন্ত্রণে’

দুই দশক পর ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া তালেবান বাহিনী বলেছে, কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি রোববার তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে তাজিকিস্তানের উদ্দেশ্যে কাবুল ত্যাগ করার পর তালেবানের দুই কর্মকর্তার বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্স লিখেছে, তালেবানের ওই দাবির সত্যতা তারা যাচাই করতে পারেনি। আফগানিস্তানের কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে পারেনি।

বিবিসি লিখেছে, তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের দর কষাকষিতে উপস্থিত দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিলাল সারওয়ারি নামের স্থানীয় একজন সাংবাদিক।

তারা বিলালকে বলেছেন, দুই পক্ষের সমঝোতায় এটা ঠিক হয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট প্রসাদেই ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা হবে এবং প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

কিন্তু জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে তিনি কাবুল ত্যাগ করার পর প্রেসিডেন্ট প্রসাদের কর্মীদের সবাইকে সরে যেতে বলা হয়। কর্মীরা তখন প্রাসাদ খালি করে চলে যান।

এদিকে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোলাগুলির খবর জানিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে কাবুলের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। ওই বিমানবন্দরেই এখন দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

দূতাবাসের বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে, কারণ কাবুলের পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, বিমানবন্দরের টারমাকে লোকজনকে দৌড়াতে দেখা গেছে। ফ্লাইট পরিচালনা এবং ইমিগ্রেশন ডেস্কের কাজের জন্য খুব কম কর্মীই এখন বিমানবন্দরে আছেন।

নেটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ এক টুইটে বলেছেন, জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। কূটনীতিক ও দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ করার জন্য বিমানবন্দর চালু রাখার কাজে তারা সহায়তা দিচ্ছে।

কাবুলে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ডেভিড মার্তিনোন তার ‘গ্রিন জোন’ ত্যাগ করার ভিডিও শেয়ার করেছেন টুইটারে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন সরকারি ভবন এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো ওই গ্রিন জোনের ভেতরেই অবস্থিত।
বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রস ইউলসনও দূতাবাস ত্যাগ করে বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন। গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাও নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

কাবুলে ইউনিসেফের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের কর্মীদের প্রতি ‘ভদ্র আচরণই’ করছে তালেবান যোদ্ধারা। তারা চায় জাতিসংঘ আফগানিস্তানে থাকুক এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাক।

আফগানিস্তানের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ইউনিসেফের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মুখপাত্র স্যাম মোর্ট বলেছেন, তারা শিগগিরিই আবার কাজ শুরু করার আশায় আছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত এপ্রিলে ঘোষণা দেন, দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে তার দেশের সেনাবাহিনী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে। এরপর মে মাসে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে তালেবান।

অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দেশটির অধিকাংশ প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিয়ে রোববার কাবুলে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস খালি করে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।

বিভিন্ন প্রাদেশিক রাজধানীর পতনের পর যারা আশ্রয়ের আশায় কাবুলে এসেছিলেন, তারা সেখান থেকেও পালাতে শুরু করেন। কিন্তু পাকিস্তান সীমান্ত বন্ধ করে রাখায় বহু মানুষ ভিড় করেন কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

তালেবান যোদ্ধারা কাবুলের সব প্রবেশ পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আফগান সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি শুরু করে। আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মিরজাকওয়াল সে সময় বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের’ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা।

তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী আশরাফ গানি পদত্যাগ করে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেও খবর দেয় আফগানিস্তানের টোলো নিউজ।

কিন্তু পরে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির দেশত্যাগের খবর এলে তালেবান কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সরকার আফগানিস্তানে হবে না। তালেবান সরাসরি দেশের ক্ষমতা বুঝে নেবে।

তালেবানের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতার জন্য যে ‘হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলেশন’ গঠন করা হয়েছিল, তার চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশরাফ গানি এখন ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট’, যিনি দেশকে ‘এ অবস্থায় রেখে’ পালিয়ে গেছেন।

“এখন আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। পুরো জাতিই তার বিচার করবে।”

 

Comments (0)
Add Comment