মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর নেতা কামারুজ্জামান, শেষ আইনি লড়াই হিসেবে গত ৫ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়। এ আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয় রোববার। সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ, রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেন। এ রায়ের ফলে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল থাকলে।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া কামারুজ্জামানের আর কোন পথ খোলা নেই।
তিনি বলেন, ”আসামি যদি দণ্ড মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চান তবে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় কার্যকর করা যাবে না। তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কিংবা তিনি আবেদন না করলে, সেক্ষেত্রে তার স্বজনদের জেলখানায় দেখা করার সুযোগ দেয়া হবে।’ এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই তার দণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।”
গত বছরের ৩ নভেম্বর মানবতাবিরোধী কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ রায় পূর্ণাঙ্গ আকারে প্রকাশিত হলে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এদিকে, আসামিপক্ষ জানিয়েছেন, কামারুজ্জামানের সাথে দেখা করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির জানান, ‘রাষ্ট্রপতির কাছে ওনি ক্ষমা চাইবেন কি চাইবেন না, তা আমরা দেখা করে, কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবো।’
এদিকে উচ্চ আদালতের এমন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং বিশিষ্ট জনেরা।