পাইকগাছা প্রতিনিধি, খুলনা:
লবণাক্ত উপকূল এলাকা খুলনার কয়েকটি উপজেলায় তরমুজের ভাল ফলন কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। ভাল ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি। বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত তরমুজ শুধু খুলনার কৃষকের ভাগ্য বদলায় নি, বদলে দিয়েছে এলাকার আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট। চিংড়ি চাষে বিপর্যয়ে যখন কৃষকরা হিমশিম খাচ্ছে, তখন লবণাক্ত এলাকায় তরমুজের আশাতীত ফলন কৃষকদের করেছে স্বাবলম্বী।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় ২টি ইউনিয়নের এ বছর ৮৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। দেলুটি ও গড়ইখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া, হাটবাড়িয়া, সৈয়দখালী, কালিনগর, হরিণখোলা, শান্তা, বাইনবাড়িয়া, আমিরপুর বগুড়া রচক, কুমখালী, হোগলার চকসহ বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের আবাদ করেছে কৃষকরা। কম বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের আবাদ ভাল হয়েছে। গাছ ১-২ ফুট বড় হলে হালকা বৃষ্টির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিদের জমিতে অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। এতে তরমুজ চাষিদের বাড়তি টাকাও খরচ হয়েছে। চাষিরা বেশিরভাগ ভিক্টর সুপারজাতের তরমুজ চাষ করেছে। ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের তরমুজে ক্ষেত ভরে আছে। তরমুজের ক্ষেত দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। তরমুজচাষে বিঘা প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ থাকলে হেক্টর প্রতি ৪-৫ টন তরমুজের ফলনের আশা করছে চাষিরা। তবে শিলাবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে কৃষকরা আরো বেশি ফলনের আশাবাদী । হেক্টর প্রতি ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, তরমুজের বিভিন্ন গ্রেড রয়েছে, গ্রেড অনুসারে তরমুজ বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪ কেজি থেকে তরমুজের গ্রেড শুরু। ক্ষেত থেকে আড়তদার ব্যাপারীরা ১ হাজার পিসের বিভিন্ন গ্রেডের তরমুজ ক্রয় করছে। বিভিন্ন গ্রেডের ভিন্ন ভিন্ন দাম। পাইকারী ৪ কেজি একটি তরমুজের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা। গ্রেডের নিচের তরমুজ এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তরমুজচাষি মানবেন্দ্র মণ্ডল, লোকেশ মণ্ডল, নিতিশ মণ্ডল, লোচন সরকার, সমারেশ মণ্ডল জানান, এ বছর তরমুুজের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। ক্ষেত থেকে ৩০ ভাগ তরমুজ তোলা হয়েছে এবং ৭০ ভাগ তরমুজ তুলতে বাকি আছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন আশা করছে চাষিরা। উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় ধান ও চিংড়ি চাষে কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে না পারলেও তরমুজ চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। লবণাক্ত এলাকার তরমুজ বেশি মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মহাসীন আলী জানান, আবহাওয়া অনুুকূলের কারণে তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস সবসময় চাষিদের তরমুজের ক্ষেতে গিয়ে কৃষকদের পরিচর্যাসহ পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা আশাতীত ফলন পাবে এবং তারা লাভবান হবে। আগামী মৌসুমে এ অঞ্চলে আরো অধিক জমিতে তরমুজ চাষে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত তরমুজ এ এলাকায় কৃষকদের শুধু ভাগ্য বদলায় নি আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে। তরমুজের আবাদ খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছার কৃষকদের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।