গুরুদাসপুরে লিচু চাষিদের মুখে হাসি, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি, নাটোর:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় লিচু চাষিদের মুখে হাসি ফুটছে। এবার এখনও পর্যাপ্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে লিচু চাষিরা। এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা লিচু বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলার মামুদপুর, হামলাইকোল, মোল্লাবাজার, নাজিরপুর, বেড়গঙ্গারামপুর, পারগুরুদাসপুর, দৌলতপুর, বিয়াঘাট, দস্তননগর, নারিবাড়ী, পোয়ালশুড়া, চলনালী, শিধুলী গ্রামের রাস্তার পার্শ্বে এবং মাঠের লিচু বাগানগুলোতে মুকুলের সমারোহ। গাছ বোঝাই মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে ডালপালা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লিচুর বাগানগুলোকে পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরণের ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কৃষকেরা বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক ¯েপ্র করছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ব্যাপারীরা এখনই লিচু বাগান কিনতে আসছে বলে জানায় লিচু চাষিরা। প্রতিবছরের মত এবারেও লিচুর বাগান কিনে ব্যবসা করার জন্য অগ্রিম টাকা দিচ্ছেন ব্যাপারীরা। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ বাগনই বিক্রি হয়ে গেছে। বিক্রি হওয়া বাগানগুলোতে অস্থায়ী টিনের চালা দিয়ে ঘর তুলে পাহারা বসিয়েছে। শিধুলী গ্রামের লিচু চাষি আশরাফুল বলেন, এখানকার লিচু বাগানগুলো তিন দফায় বিক্রি হয়। প্রথমত মকুল আসার আগে, দ্বিতীয়ত মকুল এলে, তৃতীয়ত লিচু মারভেলের মত আকার ধারণ করলে। পোয়ালশুড়া এলাকার লিচু চাষি সামসুল আলম জানান, এই এলাকার মানুষ লিচু চাষ করে বেশ স্বাবলম্বী হয়েছে। আমি তিন বিঘা জমিতে গত বছর দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছি। এবার তার চেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্রী মিলন কুমার বলেন, লিচু চাষ বেশ লাভজনক বলে প্রতিবছর বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি আশা করেন যেভাবে প্রতিবছর এখানে লিচু বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এখানকার কৃষকেরা লিচু করে উন্নতিসাধন করতে পারবে। কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলা এবার ৩৫০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। প্রতিটি লিচু বাগানে ভালো মকুল হওয়ায় লিচু চাষিরা এবার বাম্পার ফলন পাবে বলে তিনি আশা করছেন।

Comments (0)
Add Comment