রবিবার সচিবালয়ে এক সংলাপে নিজের নতুন দায়িত্বসহ নানা বিষযে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম ‘উন্নয়ন ও সমসাময়িক রাজনীতি’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে। চলতি মাসের কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। দায়িত্ব পাওয়ার পর তার করণীয় হিসেবে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দলের মধ্যে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের কথা বলেছেন নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের দুর্বলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সমস্যাতো আছেই। এতবড় দল, এতবড় পরিবার। পরিবারের মধ্যে কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকে। বাস্তবতা অস্বীকার করে তো লাভ নেই।
দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি দলের উন্নয়নের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঘর যদি ডিসিপ্লিনড না হয় তাহলে বাইরে আমরা কি করে ডিসিপ্লিনড করব। আপন ঘরকে ডিসিপ্লিনড করতে হবে।
দলে কোনো শুদ্ধি অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘অলরেডি বলে দেওয়া হয়েছে, অপকর্ম যারা করছে, যারা দলের সন্মানকে ক্ষুন্ন করছে, তারা যদি সংশোধন না হয়, পরবর্তী নির্বাচনে তাদের নমিনেশনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করলেও আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে এবং ভালভাবেই আসবে। বিএনপি আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না। আগের ভুলের চোরাবালিতে অনন্তকাল তারা আটকে থাকবে না।’
বিএনপি অংশ না নিলে আগামী নির্বাচন তাদের ছাড়াই হবে কি না- জানতে চাইলে তার উত্তরে বলেন, ‘যদি কেউ না আসে তাহলে আমরা কি করব?’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ভয়কে জয় করতে পারেনি। আন্দোলনেও পারেনি, নির্বাচনেও পারেনি। তারা একটা ভয়ের মধ্যে আছে।’ কিসের ভয়- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এতবড় একটা দল, ৫০০ লোকের মিছিল করতে পারে না।’ তবে বিএনপির শক্তির কথা উল্লেখ করে তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন না বলেও জানান কাদের।
২০১৩ সালে খালেদা জিয়াকে গণভবনে শেখ হাসিনার দাওয়াত দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রয়োজনে সংলাপ শেখ হাসিনা করবেন। কিন্তু এ মুহূর্তে সংলাপের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শ্যামল সরকার, সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।