আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভরদুপুরে বাজারের মধ্যে তেইশ বছরের এক তরুণী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মারধর করল তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কোনমতে পালাতে গিয়ে তরুণী যখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তখন তাকে ভ্যান রিকশায় চাপিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে ফের শুরু হয় নির্যাতন।
এ বার হাত-পা বেঁধে যৌনাঙ্গে বাঁশের কঞ্চি গুজে দেওয়া হয়। প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে বারাসত থানার পুলিশ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অভিযুক্তরা পলাতক।
কেন এই অত্যাচার? পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরের দিকে ওই গৃহবধূ কদম্বগাছি ফাঁড়িতে এসে লিখিত অভিযোগ করেন, স্বামী বাড়িতে না থাকলে তার দুই দেবর তার উপর দৈহিক অত্যাচার চালায়। ওই দুই যুবককে বুঝিয়ে বলার অনুরোধও তিনি করেছিলেন তার লিখিত অভিযোগে।
স্থানীয়রা বলেন, এলাকায় বিষয়টি ছড়ানোর পর মঙ্গলবার সকালে দুই দেবর এবং তাদের এক জনের স্ত্রী ওই গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করে। গৃহবধূ বাড়ি থেকে বেরিয়ে টাকি রোড ধরে পালাতে থাকেন। তখন ওই তিন জনও তার পিছনে ধাওয়া করে।
কদম্বগাছি বাজারে সকলের চোখের সামনেই তাকে চ্যালাকাঠ, ইট দিয়ে মারধর করা হয়, মাথার চুলও টেনে ছিড়ে নেওয়া হয়। সেই সময়েই তার শাড়ি, সায়া-ব্লাউজ খুলে তাকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে দেয় ওই তিন জন।
প্রত্যক্ষদর্শী নাসিম আখতার নামে এক যুবক বলেন, ‘এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে বাধা দিতে গিয়েছিলাম। ওদের মধ্যে এক জন আমার চোখে আঘাত করে সরিয়ে দেয়। পারিবারিক বিবাদে ঢুকতে নিষেধ করে।’
মহিলা কোনমতে নিজের আব্রু রক্ষা করতে এক টুকরো ছেড়া কাপড়ে নিজেকে আড়াল করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তখন ওই তিন আত্মীয়ই ভ্যান রিকশায় তুলে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।
বাড়িতে গিয়েও রেহাই মেলেনি তরুণীর। বাড়ির পাশে একটি গাছের তলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে ফেলে ফের তার উপর অত্যাচার চলে। ওই মহিলার যৌনাঙ্গে কঞ্চি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে। এক প্রতিবেশী নিজের বাড়ির সামনে বৃষ্টির জলের সঙ্গে রক্ত ভেসে আসতে দেখে বাইরে গিয়ে ওই দৃশ্য দেখেন। তিনি পুলিশকে ফোন করেন।
পুলিশ এসে তরুণীকে উদ্ধার করে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, তরুণীর অবস্থা সঙ্কটজনক। যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছেন। সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন, জমাট হয়ে রক্ত জমে রয়েছে। বুধবার, তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা।
মহিলার স্বামী রাতে পুলিশে অভিযোগ জানান। পুলিশ জানিয়েছে, ওই তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মারধর, যৌন নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা এখন পলাতক।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা