বেড়া প্রতিনিধি, পাবনা:
পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দুইটি বসতঘর, নগদটাকা, ধান-চাল ও আসবাবপত্রসহ তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া একটি গবাদি পশু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এ অগ্নিকাণ্ডে মোট চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের দাবি শত্র“তা করে দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে আগুন দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী মাবিয়া খাতুন (৪০), তার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পাশের দমদমা গ্রামে ইসলামী জলসা শোনার জন্য যান। এ সময় আব্দুর রশিদ বাড়িতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত পৌনে ১২টার সময় হঠাৎ করে ঘরের চারপাশে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। ঘরে শুয়ে থাকা আব্দুর রশিদ টের পেয়ে ঘরের জানালা ভেঙ্গে বাইরে বের হয়ে চিৎকার শুরু করে। এসময় আশ পাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভায়। ততক্ষণে দুইটি বসত ঘর, নগদটাকা, ধান-চাল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া একটি গবাদি পশু আগুনে পুড়ে মারা যায়। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি করেন।
গত কাল বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অসুস্থ আব্দুর রশিদ বাকরুদ্ধ হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে পাশের বাড়ির একটি বারান্দায় শুয়ে আছেন। এসময় তার স্ত্রী মাবিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথায় থাকুম কি খামু। কারা শত্র“তা কইরা আমার এই সর্বনাশ করইলো। তিনি বলেন, তিন লাখ টাকা লোন কইরা এই বাড়ি ঘর কইরছি। এ লোনগুলো কিভাবে শোধ করুম।”
চাকলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফজর আলী বলেন, এই অগ্নিকাণ্ড যড়যন্ত্রমূলক। আমাদের ধারণা কেউ ষড়যন্ত্র করে আগুন দিয়েছে।
এ ব্যাপারে চাকলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ এলাকার রাস্তায় মাঝে মধ্যেই ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তার ধারণা ওই সকল দুর্বৃত্তরা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, পরিবারটি খুবই গরিব। তিনি পরিবারের ক্ষতি পূরণের জন্য পাবনা জেলা প্রশাসক, বেড়া উপজেলা পরিষদের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানান।