ভুরুঙ্গামারীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে প্রতারক প্রেমিক ও তার বন্ধুরা।
জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ওসমান আলীর বিবাহিত পুত্র জুয়েল মিয়া একই ইউপির আইকুমারীভাতী গ্রামের ফরিদুল ইসলামের কিশোরী কন্যা ফেরদৌসী খাতুন(১৬) এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ১ জুন/১৬ ফেরদৌসীকে বিয়ের কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে অটোবাইকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাত ৯ টার সময় জয়মনিরহাট লেফটেনেন্ট শহীদ সামাদ টেকনিক্যাল কলেজের একটি নির্জন কক্ষে কয়েকজন বন্ধু মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে জুয়েল ধর্ষন করে। পরে ফেরদৌসী খাতুনকে তার বন্ধুদের নিকট রেখে সটকে পড়লে কিছুক্ষন পরে গ্রাম পুলিশ শাহজাহান আলী, বাবুল বাদশাহ (২০), আবু হানিফ(৩৫), আব্দুর রহিম(২৮), খাইরুল হক (২৬), সুজন মিয়া (২২), হাবিজুল (৩০) ও নওসের আলী(২৮) পালাক্রমে ধর্ষণ করে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।
পরদিন ২জুন সকালে ফেরদৌসীর পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। ফেরদৌসীর মা শাহিনুর বেগম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ সরকারের কাছে মেয়ে ধর্ষনের বিচার দাবী করেন। চেয়ারম্যান সুষ্ঠ বিচার এবং ধর্ষক জুয়েলের সঙ্গে বিয়ের দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত বিচার কিংবা বিয়ের কোন ব্যবস্থা করে নাই।
অপরদিকে এই সংবাদ জানাজানির পর জুয়েলসহ তার সহযোগীরা সকলে গা ঢাকা দেয়। গত ৩ জুন/২০১৬ শুক্রবার ফেরদৌসীর পরিবার মামলা করার জন্য ভুরুঙ্গামারী থানায় এলে ঐ ইউনিয়নের দুজন ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান ও সিদ্দিক আলী তাদেরকে ধর্ষক জুয়েলের বিয়ে দেয়ার কথা দিয়ে মামলা না করে বাড়িতে ফেরত পাঠায়।
৪ জুন শনিবার ধর্ষিতা ফেরদৌসী খাতুন নিজে বাদী হয়ে ভুরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ০২ তারিখ ৪/৬/২০১৬।
এ ব্যাপারে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, মেয়েটি গণধর্ষণ হয়নি। শুধু জুয়েল ধর্ষণ করেছে। বিয়ের কথা হওয়ায় ৩ জুন বাদী মামলা করেনি। বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শনিবার বিকেলে মামলা হয়েছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য রোববার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডাঃ অজয় কুমার জানান, রোববার মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment