আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর এবার দেশটির প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর দিকে নজর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন কাবেলোকে সতর্ক করে বলেছে, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সহযোগিতা না করেন এবং দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা না রাখেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নিশানা হতে পারেন তিনিই।
ঘটনা সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মাদুরোর অবর্তমানে ভেনেজুয়েলা এখন একটি রূপান্তরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে কাবেলোসহ মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের ওপরই নির্ভর করার কৌশল নিয়েছে।
সূত্র জানায়, মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, তবে তাকেও মাদুরোর ভাগ্যবরণ করতে হবে অথবা নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাবেলোর পুরোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই সুযোগে কাবেলো পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারেন। তাই ওয়াশিংটন একদিকে তাকে চাপে রেখে সহযোগিতা আদায়ের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে তাকে ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিয়ে নির্বাসনে পাঠানোর পথও খুঁজছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে কাবেলোকে ক্ষমতা থেকে সরানো বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ, তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘কালেক্টিভোস’ নামে পরিচিত সরকারপন্থী মোটরসাইকেল বাহিনী সড়কে নেমে তুমুল অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিশানায় আরও রয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলোর মতো পাদ্রিনোও যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েক লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
তবে সূত্র বলছে, ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে কাবেলোর তুলনায় পাদ্রিনো কম জেদি। নিজের নিরাপদ প্রস্থানের পথ খুঁজতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলতে পারেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী তার নিয়ন্ত্রণে থাকায় নেতৃত্বের শূন্যতা এড়াতে পাদ্রিনোর সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান এবং আমাদের এই অভিযান এখনো শেষ হয়নি।’
ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় অবশিষ্ট শক্তিগুলোর ওপর সর্বোচ্চ প্রভাব খাটিয়ে নিশ্চিত করতে চাইছেন যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ, মাদক পাচার রোধ, তেল অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষে কাজ করার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।