রকমারি ডেস্ক:
অতিপ্রাচীন কাল থেকে মূল্যবান গয়না হিসেবে মুক্তা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাচীন রাজবংশের সদস্যগণ মুক্তার তৈরি অলংকার ব্যবহার করতেন। অলঙ্কার জগতে এর অসম্ভব জনপ্রিয়তা ও সুনাম রয়েছে। মুক্তা একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ যা ঝিনুকের দেহাভ্যন্তরে পাওয়া যায়। মুক্তার গাঠনিক উপাদানের ৯০% অ্যারাগোনাইট যার প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দ্বারা গঠিত।
যেভাবে মুক্তা তৈরি হয়:
সাধারণত প্রাকৃতিক ভাবে ঝিনুকের অভ্যন্তরে মুক্তা উৎপন্ন হয়ে থাকে। জলাশয়ে অবস্থানের সময় কোন কারণে যদি মুক্তা উৎপাদনকারী ঝিনুকের ম্যান্টল আবরণী ভেদ করে দেহাভ্যন্তরে কোন বহিরাগত বস্তু প্রবেশ করলে মুক্তা উৎপাদন শুরু হয়ে যায়। বহিরাগত বস্তু প্রবেশের পর ঝিনুক খোলকের ন্যাকরিয়াস স্তর থেকে ক্ষরণ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষরিত উপাদান জমতে জমতে চকচকে মুক্তার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও কৃত্রিম ভাবে মুক্তা চাষ করা যায়। বর্তমানে অনেকে কৃত্রিম উপায়ে বাণিজ্যিক ভাবে মুক্তার চাষ করে থাকে।
হরেক রকম মুক্তা:
আকার আকৃতির দিক থেকে মুক্তা বিভিন্ন রকম হতে পারে। গোলাকার,ডিম্বাকার,চ্যাপ্টা বিভিন্ন আকৃতির মুক্তা পাওয়া যায়। প্রাপ্ত মুক্তার অধিকাংশ সাদা রঙের হয়ে থাকে। তবে সাদা, কাল, ধূসর, নীল, হলুদ, সবুজ রঙের মুক্তাও পাওয়া যায়। মুক্তার রং নির্ভর করে ঝিনুক কোন পরিবেশে বসবাস করে উপর।
বিশ্বের প্রাচীনতম মুক্তা:
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাওয়া একটি মুক্তা বর্তমানে বিশ্বের সব চাইতে প্রাচীন মুক্তা। ফ্রান্সের
একজন গবেষক কয়েক বছর আগে এই মুক্তাটি আবিষ্কার করেন। মুক্তাটি পাওয়া গিয়েছিল আরব আমিরাতের উম আল কুয়েইনের একটি কবর থেকে। মুক্তাটার কার্বন ডেটিং করে জানা যায় এটি
তৈরি হয়েছিল প্রায় ৫৫৪৭ থেকে ৫২৩৫ খ্রিষ্টপূর্বে। এতদিন ধারণা করা হত জাপানে আবিষ্কৃত জমন নামের একটি মুক্তা বিশ্বের প্রাচীনতম। জমন নামের মুক্তাটির বয়স ছিল আনুমানিক বয়স প্রায় ৫০০০ বছর। তাকে পেছনে ফেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাওয়া ৭৫০০ বছর পুরনো মুক্তাটি এখন বিশ্বের সবথেকে প্রাচীন মুক্তা। এই মুক্তাটির ব্যস ০.০৭ ইঞ্চি বা ২ মিমি।