চট্টগ্রাম ব্যুরো:
মাদকাসক্তি বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের প্রদত্ত বক্তব্যকে ভুলভাবে এবং খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কাক্সিক্ষত নয়। গত ২৬ জুন মাদকবিরোধী দিবসের এক আলোচনা সভায় মাদকদ্রব্যের সামগ্রিক করাল গ্রাসের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে সুনির্দিষ্ট করে শুধু সাংবাদিক সমাজ বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোন উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য বা কথা ছিল না। সামগ্রিক মাদকের ভয়াবহতা বুঝাতে জাতীয় স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরো বেশি ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন মেয়র। কেননা, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকরাই তাদের লেখনির মাধ্যমে পারেন অপরাধের প্রধানতম উপসর্গ মাদক থেকে সমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে। মেয়রের বক্তব্যের মূল নির্যাসটুকুকে ধারণ না করে খণ্ডিত বা অংশ বিশেষ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশের কারণেই সাংবাদিকদের কারো কারো মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার আশংকা থেকে যায়, যা কখনো কাম্য নয়।
মেয়রের ঐ বক্তব্যের খণ্ডিত প্রকাশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) প্রদত্ত বিবৃতিটি যে কোন বিবেককে আশাহত করে। একজন নির্বাচিত মেয়রকে ‘অসুস্থ মস্তিষ্কের’ লোক উল্লেখ করে সিইউজে প্রদত্ত বিবৃতিটি ও দুঃখজনকভাবে শালীনতার গণ্ডি ছাড়িয়েছে, যা অনাকাক্সিক্ষত বটে।
যেহেতু চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) একটি ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী সংগঠন, জাতীয় বিভিন্ন দুঃসময়ে এ সংগঠন ভূমিকা রেখেছে, সেহেতু মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কোন বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা ধরে নিয়ে যদি সিইউজে কিংবা সাংবাদিকদের কেউ ভুল বুঝেন তবে তাও আশাহত করে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এবং সিইউজে এর সাথে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সম্পর্কটি অত্যন্ত আন্তরিক। উভয় প্রতিষ্ঠানের যথাক্রমে আজীবন দাতা সদস্য ও কল্যাণ তহবিল সদস্যও মেয়র।
সর্বশেষ ২৭ জুন প্রেসক্লাবের ইফতার ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে মাদকবিরোধী অবস্থানে সাংবাদিক সমাজের আরো জোরদার ভূমিকাই প্রত্যাশা করেছেন, এতে সাংবাদিকদের কোন প্রকার খাটো করা বা দোষারোপ করার ন্যূনতম ইচ্ছা ছিল না।