রংপুর প্রতিনিধি : অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ইন্সট্রাক্টর রিজিয়া খাতুন, রেহেনা আক্তার ও খালেদা বানুকে স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গড়েউঠা আন্দোলন সামাল দিতে নির্ধারিত সময়ের সাতদিন আগে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
রোববার সকালে এসেই শিক্ষার্থীরা দেখেন নোটিশ বোর্ডে ৫ জুলাই কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ নিয়মানুযায়ী ঈদের বন্ধ হওয়ার কথা ১২ জুলাই থেকে। কিন্তু কলেজের তিন ইন্সট্রাক্টর খালেদা খানম, রিজিয়া খাতুন ও রেহেনা বেগমের অপসারণের দাবিতে গত ৩০ জুন থেকে ক্লাশ বর্জন করে প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতেই কর্তৃপক্ষ রাতের অন্ধকারে আগেভাগেই ক্যাম্পাস ছুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এতটাই বেসামাল ছিলো যে ১৯ তারিখ ঈদ হওয়ার কথা থাকলেও ২০ তারিখে ক্যাম্পাস খোলার দিন ধার্য করা হয়। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পরও শিক্ষার্থীরা কলেজে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে তারা হল ছাড়তে থাকে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক সুমি আখতার জানান, তিন ইন্সট্রাক্টরকে বাঁচাতে অধ্যক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্ধারিত সময়েই আগেই রাতের আধারে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু অধ্যক্ষ অন্যের অনিয়মকে জায়েজ করতে কেন এতো মরিয়া তা আমাদের বোধগম্য নয়। ছুটির পরের দিন থেকে আবারও যথারীতি ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব লাভলী আখতার লিমা জানান, কোনোভাবেই আমাদেরকে দমানো যাবে না। আমরা ছুটির পরের দিন থেকেই আবারও যুগপদ আন্দোলন গড়ে তুলবো। তিন ইন্সট্রাক্টরকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফুন্নেছা জানান, ঈদের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।