রৌমারী প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীতে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার গ্রামবাসীর উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়।
কর্মসূচির মধ্য ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহ্ফিল ও কাঙ্গালি ভোজ। এতে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি রুহুল আমিন, শৌলমারী সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কমর ভাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, কুটির চর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম, রাজিবপরে মহনগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক, রৌমারী কোম্পানী কমান্ডার মেহেরুন ইসলাম, নায়েব সুবেদার শাহজাহান, এস এম সাদিক হোসেন প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বাংলাদেশি সীমান্তে অনধিকার প্রবেশ করে বড়াইবাড়ি গ্রামে ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা চালায় ও বাড়ি-ঘর নির্বিচারে জ্বালিয়ে দেয়। ঐ দিন হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল বিডিআর ও জনতা। সেই প্রতিরোধে বিএসএফ ১৬ জনের লাশ ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেই সংর্ঘষে শহীদ হয়েছে বাংলাদেশের ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়ানের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়ানের সিপাহী আব্দুল কাদের। এ ছাড়া আহত হন হাবিলদার আব্দুল গণী, নায়েক নজরুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আবু বক্কর ছিদ্দিক, সিপাহী হাবিবুর রহমান ও সিপাহী জাহিদুর নবী। সেই সময় বিএসএফ এর তাণ্ডবে পুড়ে ছাই হয়েছিল বড়াইবাড়ি গ্রামের ৬৯টি বাড়ি। ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। ঘটনার ১৪ বছরেও সরকারিভাবে পুনর্বাসিত করা হয় নি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের। শেষ হয় নি তাদের দুঃখের দিন। এখনো সেই গ্রামে রাস্তা নেই, বিদুৎ নেই, নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পোড়াভিটার পোড়াটিনের চালের নিচে কাটছে অনেকের দুর্বিসহ জীবন। সরকারের কাছে এলাকাবাসির দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসিত করার।