শাহাদত হোসেন, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদীতে তীব্র স্রোতে ভাঙনের কারনে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় ২০হাজার পরিবার। বর্তমান পরিবারগুলো স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত কয়েক দিনে বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকি মুখে পড়েছে ৫০হাজার পরিবারসহ রৌমারী উপজেলা রক্ষা বাঁধ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় নদী ভাঙনে খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলদমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অষ্টমীরচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লসহ অনেক প্রতিষ্ঠান ইতি মধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০হাজার পরিবার। পরিবার গুলো অন্যের জমিতে কোনমতে ঠাঁই নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকালা চরশৌলমারী ইউনিয়নের সাহেবের আলগা, ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, সুখেরবাতি, খাউরিয়া, বন্দবেড় ইউনিয়নের উত্তর বাগুয়ারচর, বলদমারা, উত্তর খেদাইমারী, বাইশপাড়া, গোয়ালেরচর ,ফলুয়ারচর, উত্তর ফলুয়ারচর, পালেরচর, কুটিরচর, চরবাঘমারা, রৌমারী ইউনিয়নের কান্তাপাড়া, কাশিয়ারচর, চাক্তাবাড়ি, যাদুরচর ইউনিয়নের দুবলাবাড়ি, ধনারচর পশ্চিমপাড়া ও কাঠিয়ামারী গ্রামের ইতি মধ্যে ২০হাজার পরিবার ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে। অপর দিকে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলা রক্ষা বাঁধ। নদী ভাঙন কবলিত মানুষের আর্তনাদ জনিত বক্তব্য নিম্নে তুলে ধরা হলো।
কুঁটিরচর গ্রামের আসরাফ আলী জানান, আমাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে গেছে। আমরা এখন সর্বহারা, অন্যের জমিতে কোন মত ঠাঁই নিয়ে বেঁচে আছি।
পালেরচর গ্রামের ছোরমান মাঝি বলেন, আমাদের সয় সম্বল সব নদীতে ভেসে গেছে। রাস্তার ধারে কাগজের ছাপড়া দিয়ে পোলাপান নিয়া কোন মতে বাইচা আছি।
উত্তর ফলুয়ারচর গ্রামের মকুল, শানু, সভা দাশ, মঞ্জু, কুতুব আলী, জহেরা, তুলসী, হনুফা, জামাল শেখ, ছামছুল, তারাফুল, ছমেদ তারা জানান, দিনের পর দিন নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তবে প্রতি বছরে নদী ভাঙনে আমাদেরকে আতঙ্কে থাকতে হয়।
বলদমারা গ্রামের জয়নাল,সোহরাব,ময়নাল,দুলাল,রাশেদুল বলেন, এক বছরে আমরা তিন বার বাড়ী টান দিছি,নিজে বাড়ী নেওয়ার জমি নাই,আমরা খেদাইমারী ও বলদমারা গ্র্যামে তিন হাজার পরিবার আছিলাম বাড়ীঘর সবারি নদীতে ভাইগ্যা গ্যাছে,এহন পরে জমিতে উডুল্লাহ থাকি,শেখ হাসিনা কাছে আমাগো একটাই দাবী তিনি যেনো নদী বাঁইনধা দেয়, আমরা রিলিপ চাইনা, নিজে জমিতে ঘর তুইলা থাকবার চাই।
খেদাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাধান শিক্ষক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন আমাদের স্কুলসহ পশ্চিম বাগুয়ারচর,বলদমারা গ্রামের প্রায় ১হাজার বাড়ী ঘর ১মাসের মধ্যে নদীর র্গভে বিলীন হয়ে যায়।
চরবাঘমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন নদী ভাঙ্গনের কবলে চরবাঘমারাগ্রামের ৩হাজার পরিবারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রৌমারী উপজেলার প্রায় ৫০হাজার পরিবার হুমকির মূখে রয়েছে।
রৌমারী উপজেলা কর্মরত সিএসডিকে এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবু হানিফ বলেন গত পাঁচ বছরে রৌমারী,রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ৫০হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উদবাস্ত হয়েছে।এইসব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। উদবাস্ত পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ১০বছরে মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, আমি চরশৌলমারী, বন্দবেড় ও যাদুরচর ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছি। নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নদী ড্রেজিং করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জন্য উপজেলা সমন্বয় কমিটি সভায় রেজিলেশন করে জেলা প্রশাসক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।