লক্ষ্মীপুরে আবারও শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমী (উচ্চ বিদ্যালয়ের) অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক মিহীর কান্তি দাসের বিরুদ্ধে। এর আগে শনিবারে রায়পুর উপজেলার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়া এক ছাত্রীকে উত্যক্তের করার অভিযোগে রিয়াদ হোসেন নামে এক লম্পট শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুন) সকাল ১০ টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মিহীর কান্তি দাসকে অপসারণ ও যথাযথ বিচারের দাবিতে শ্রেণি কক্ষে তালা দিয়ে ক্লাস বর্জন করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা লম্পট শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার দেয়ালে পোস্টার ও লিপলেট সাঁটায় এবং বিক্ষোভ করে।
শিক্ষার্থীরার জানায়, প্রাইভেট পড়তে গেলে ওই লম্পট শিক্ষক এক ছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন হয়রানি ও ধষর্ণের চেষ্টা করে। পরে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পায় সে। এ ঘটনায় অভিযোগ করা হলেও আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ক্লাস বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি। যৌন হয়রানিকারী লম্পট শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার ও যথাযথ বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবো না বলে জানায় তারা (শিক্ষার্থীরা)।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শান্তি রঞ্জন দাস বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ খোলতে দেয়নি। যে কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকে। অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাপারে তিনি বলেন- শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকোজ করা হয়েছে। সে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মিহীর কান্তি দাস ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে আমি থাপ্পর দিতে গেলে মিসটেক হয়। এব্যাপারে ছাত্রীর অভিভাবক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়েছি এবং বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছি।
প্রসঙ্গত, ইংরেজী শিক্ষক মিহীর কান্তি দাস হাজিরহাট বাজারের একটি ভাড়া বাসায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমীর অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী তার কাছে পড়তে যায়। এসময় ওই শিক্ষক তাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রী দৌড়ে পালিয়ে নিজকে রক্ষা করে। ওই ছাত্রী বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানালে তারা (অভিভাবকরা) বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। প্রাইভেট পড়ানো ও শ্রেণিতে পাঠদান করিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ওই ছাত্রী তীব্র ক্ষোভ ও লজ্জায় গত ৪ মাস বিদ্যালয়ে আসছেনা। যে কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে তালা দিয়ে ক্লাস বর্জন করে।
উল্লেখ্য গতকাল শনিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগে রিয়াদ হোসেন নামে এক লম্পট শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

Comments (0)
Add Comment