লোহাগাড়ায় পাসপোর্ট আবেদন তদন্তে চিহ্নিত হল রোহিঙ্গা ভোটার

লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর আমিরাবাদ এলাকায় এক রোহিঙ্গা পরিবার অবৈধ পন্থায় ভোটার হয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু পাসপোর্ট আবেদনটি লোহাগাড়া থানায় তদন্তে আসলে চিহ্নিত হয় আবেদনকারী একজন রোহিঙ্গা। তিনি আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন এবং তার পরিবারের সকলেই ওই এলাকার ভোটার হয়েছে। আবেদনকারীর নাম কালু মিয়া। তার এক ছেলে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় চাকরিরত আছে। কালু মিয়াও বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে পুলিশের তদন্তে রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।
জানা যায়, কালু মিয়া উত্তর আমিরাবাদ পুরাতন বলির পাড়া এলাকায় স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। স্থানীয়রা জানান, এ পরিবারটি মায়ানমার থেকে এসে রাজঘাটা লাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রথমে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয় মো. হোসেনের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী মোবিনা বেগম, জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯৭২১৫১৪৭১০০০০০০২ ও ছেলে জাবেদ হোসেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯৯০১৫১৪৭১০০০০০৬৫। বিদেশী নাগরিক হয়েও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রািপ্তর ক্ষেত্রে স্থানীয় একটি দালাল চক্রের হাত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আবুল বশর (৭৫) জানান, এ পরিবারটি বার্মা থেকে এসেছে। শুনেছি তারা অবৈধ পন্থায় ভোটার আইডি কার্ড বানিয়েছে এবং বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হাশেম বলেন, ওই পরিবারের ২/১ জন সদস্যকে আমি ভোটার তালিকা তৈরির সময় লাইন থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছিলাম। পরে কিভাবে তারা আমার ওয়ার্ডের ভোটার হল তা জানি না। তবে আমি এ পরিবারটিকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবরে আবেদন করবো।
লোহাগাড়া থানার এএসআই মো. জাহাঙ্গীর জানান, তদন্তে আবেদনকারী সঠিক ঠিকানা জানাতে পারেন নি এবং ওই এলাকায় তার কোন নিজস্ব ভিটে-বাড়ি নেই।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার আল মামুন বলেন, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ভোটার তালিকা থেকে ওই পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করা হবে।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিজনুর রহমান বলেন, ফেইসবুক সূত্রে বিষয়টি অবগত হয়েছি এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে চিঠি প্রেরণ করেছি।
উল্লেখ্য, লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ রাজঘাটা, চট্টলা পাড়া, জঙ্গল পদুয়া ও চুনতি এলাকায় প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এখানকার বাসিন্দা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

Comments (0)
Add Comment