সালথায় নিহত শিক্ষককের খুনীদের বিচারের দাবী সর্বমহলের!

সালথা প্রতিনিধি মোঃ আবু নাসের হোসাইন ঃ
ফরিদপুরের সালথায় মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে নিহত স্কুল শিক্ষক বেলায়েত হোসেন (দুলাল) মোল্যার খুনীদের বিচারের দাবী করেছে এলাকার সর্ব স্তরের মানুষ। শুক্রবার বিকালে নিহতের নিজ গ্রাম উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের শিহিপুর মাদ্রাসা মাঠে তার জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাযা শেষে প্রায় সহস্্রাধীক মানুষ বিচারের এ দাবী তুলে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল মর্গে থেকে নিহতের লাশ শিহিপুর গ্রামে আনার পর এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে। ভাই কান্দে, বোনে কান্দে’ কান্দে এলাকাবাসী। লাশ দেখে স্ত্রী নারগিছ বেগম, ছেলে সাইফুল ও শিশু মাম্মন, রাজেন্দ্র কলেজ পড়–য়া বড় মেয়ে হালিমা জাহান বুশরা, ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী গালিফা আক্তার অঝরে কাদেন এবং বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের কান্দোনে ঐ এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। হাজার হাজার নারী পুরুষ, শিশু কিশোর সবাই আহ্ আহ্ করতে থাকে এবং তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মরহুমের জানাযায় উপস্থিতি হাজারো মানুষের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া, বিএনপি নেতা আতিয়ার রহমান কবির, গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফর, আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ খান, হেমায়েত হোসেন খান, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মামুন মিয়া, খন্দকার মুঞ্জুর রহমান, ইউসুফ মাতুব্বার, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকসহ স্থানীয় এলাকাবাসী দুলাল মাষ্টারের খুনী লিটন ও তার সহযোগিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। এসময় তারা আরো বলেন, দুলাল মাষ্টারের মতো আর কারো যাতে জীবন দিতে না হয়, সেজন্য এই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, মাদক বিক্রির বাধা দেওয়ায় স্কুল শিক্ষক দুলাল মোল্যাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী লিটন ও তার সহযোগিরা। গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়য়নের শিহিপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। দুলাল মোল্যা শিহিপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসেন মোল্যার ছেলে ও জয়ঝাপ উচ্চ-বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শিক্ষক।

নিহতের ছেলে সাইফুল মোল্যা বলেন, প্রতিবেশী মোকারম মোল্যার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী লিটন মোল্যা ও তার সহযোগিরা আমার বাবাকে প্রকাশ্যে এলাপাথারীভাবে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠান। মেডিকেল হাসপাতলের ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহমান সেলিম তাকে মৃত ঘোষনা করেন এবং বলেন অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পেটে ও গলায় কয়েকটি কোপের দাগ রয়েছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিএম বেলায়েত হোসেন বলেন, এঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।

মোঃ খালেদুর রহমান। ফরিদপুর

Comments (0)
Add Comment