ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব মাদকের মধ্যে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবা উল্লে-খযোগ্য। এসব মামলায় পুলিশ বাদি হয়ে বিভিন্ন সময়ে আসামী কোর্টে প্রেরণ করছেন। কিন্তু অতীব দু:খের বিষয় হাতে-নাতে মাদকসহ আসামি ধরা পরার পর কোর্টে প্রেরণ করলেও পুলিশ থানায় ফিরার আগেই আসামী বাড়ি চলে আসছে। মাদকের ব্যবহার রোধ করতে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর হার্ড লাইনে থাকা সত্ত্বে¡ও মাদক বিক্রেতা জামিনে মুক্তি পেয়ে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে কিভাবে বহাল তবিয়তে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী উভয়েই সমাজের সুষ্ঠ পরিবেশ বিনষ্ট করছে যার প্রেক্ষিতে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ উঠতি বয়সের যুব সমাজ গর্হিত অপরাধের সংগে জড়িয়ে নানা রকম অসমাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে।
গত নভেম্বর ও চলতি ডিসেম্বর-২০১৬ ইং মাসের এক তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, সালথা থানায় আটটি মাদকের মামলা হয়েছে তন্মধ্যে ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ মো: শাকিল শেখ (৩০) কে হাতেনাতে আটক করা হয়। উক্ত মাদক ব্যবসায়ী তার দামি মটরবাইকে চড়ে সালথা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক ডেলিভারির কাজে লিপ্ত ছিলো। এ ব্যবসায়ীর বাড়ি ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার গুহলক্ষীপুর গ্রামে বলে পুলিশে ডায়েরী থেকে জানা যায়। অন্য ২ জন বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ী মাদকের চালান ডেলিভারি দিতে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালথা থানার পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। গাঁজাসহ ফরিদপুরের ভাংগা থানার পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত নঈম উদ্দীন মন্ডলের ছেলে কাশেম মন্ডল (৪৫) ও তার সহযোগি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার সিয়ালা গ্রামের আছিয়া বেগম (৩০) কে গ্রেপ্তার করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কুখ্যাত গাঁজা ব্যবসায়ি মো: বক্কার শেখ (৫০) পিং-মৃত বাহাদুর শেখ গ্রাম:মিয়ার গট্রি উপজেলা:সালথা, ফরিদপুরকেসহ উক্ত ৪টি মামলার আসামেিদর গ্রেপ্তার করে সালথা থানার এসআই রুবেল বাদি হয়ে কোর্টে প্রেরণ করে ও বাঁকি ৪ টি মামলার বাদি পুলিশের অন্যান্য এস আই বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, পুলিশ মাদকসহ হাতে-নাতে আসামীকে ধরলেও অনেক সময় গোপনে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে থানা ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে বলেও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন অনেকেই ।
তবে সালথা থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থানা ম্যানেজের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণই বানোয়াটি । কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে চাকরি থেকে রিজাইন দিবো ।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ এব্যাপারে যে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে । তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।