হংকং-প্রশাসন ২০১৭ সালের নির্বাচনী নকশা প্রণয়ন করেছে। সেখানে গণতন্ত্রপন্থীদের দাবিগুলোর প্রতিফলন ঘটেনি। চিনের পূর্বনির্ধারিত নিয়মই বলবৎ থেকেছে। হংকংএ কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের আন্দোলনকর্মীরা এ নির্বাচনী নকশাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। চিনপন্থীদের ‘ফুঁকে দেয়া’ নিয়ম ও তাদের নির্বাচিত প্রার্থীর উপস্থিতি পূর্বের দুর্দশারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন তারা। গত বছরের আগস্ট মাসে ২০১৭-র নির্বাচনি সংক্রান্ত কার্যপরিধি ঘোষিত হওয়ার পরপরই আন্দোলনে ফেটে পড়েছিল হংকং। সর্বশেষ প্রণীত নকশার সঙ্গে তার তেমন কোনো পার্থক্য নেই বলে জানা যায়। হংকং-প্রশাসনের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর প্রশাসনিক নীতিনির্ধারক ক্যারি ল্যাম এ নির্বাচনী নকশা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পে (হংকংএর) সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনে চলা হয়েছে। এবং কেন্দ্রীয় পরিষদ (চীনের) ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।’ আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়; হংকংএ ক্রিয়াশীল অপরাপর রাজনৈতিক দলের মতামতের প্রাধান্যও এতে রয়েছে।’
২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার কথা জানানোর পর হংকংজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। স্মরণকালের বৃহত্তম এ বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘটকালে আন্দোলনকারীরা আরো বেশি পরিসরে গণতন্ত্রের দাবি জানায়। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী নেতা নির্বাচিত করার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন হংকংয়ের জনজীবনকে স্তব্ধ করে দেয়। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে হংকংয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় বেইজিংয়ের শাসকদের। কিন্তু ওইসব আন্দোলন সত্ত্বেও উন্মোচন করা নীলনকশায় কোনো ধরনের ছাড় না থাকায় কয়েক মাস শান্ত থাকার পর অসন্তোষ আবার ধূমায়িত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্রীষ্মের প্রথমদিকে প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের ভোট নেয়া হবে। পরিকল্পনাটি প্রকাশের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী লিয়ুঙ চুন-য়িং জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নগরের রাজনৈতিক পরিস্থতি আরো খোলামেলা হতে পারে। “তবে এখন, সমঝোতার কোনো জায়গা নেই,” বলেছেন তিনি। “কোনো রাজনৈতিক সংস্কার শুরুর উদ্যোগ নেয়া সহজ নয়। এই প্রস্তাবটি যদি গ্রহণ করা না হয়, পরবর্তী সুযোগ আসতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে,” বলেন লেয়ুং। এ সময় আইন পরিষদের বাইরে কয়েকশ’ প্রতিবাদকারী পতাকা নাড়িয়ে বিক্ষোভ করছিল। তবে বড় একটি দল চীনা পতাকা দুলিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ‘হংকংয়ে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে’, বলছিল তারা। অপরদিকে অপেক্ষাকৃত ছোট দলটি হলুদ ছাতা নিয়ে অবস্থান করছিল। হলুদ ছাতা বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। তারা “সত্যিকারের সার্বজনীন ভোটাধিকার” ও লেয়ুংয়ের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিচ্ছিল। আইনসভায় সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরার পর হলুদ ক্রস-বো ও কালো শার্ট পরা গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতারা সভা থেকে ওয়াক আউট করেন।