নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর হাজারীবাগে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি সারোয়ার সিফাত (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সিএমএম কোর্ট ঢাকা তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে হাজারীবাগের বারইখালী ১৮-১৯ নম্বর গলি এলাকায় রাজন নামের একজনের চায়ের দোকানে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা স্থানীয়দের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভিডিও বক্তব্য শুনছিলেন। সে সময় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ একদল সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারী সেখানে উপস্থিত হয়ে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলে এবং তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন আখ্যা দিয়ে মিথ্যাচার চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় হেযবুত তওহীদের রমনা জোনের সভাপতি মো. এরশাদ আলী শিকদারসহ অন্তত সাতজন সদস্য গুরুতর আহত হন। এরশাদের মাথায় ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপ মেরে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া আল আমিনের মুখে ও হাতে মারাত্মক জখম, সেন্টু ইসলামের চোখে রড ঢুকিয়ে জখম এবং ফারুক হোসেন ও শাহজাহানের মাথায় হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর জখম হয়। শাহজাহানের কানের পর্দা ফেটে রক্তক্ষরণের ঘটনাও ঘটে। হামলায় আহত অন্যরা হলেন ফজলে রাব্বী ও নিজাম উদ্দিন।
এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি হেযবুত তওহীদের রমনা জোনের সভাপতি মো. এরশাদ আলী শিকদার বাদি হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন মো. পারভেজ হোসেন (৩০), মনির হোসেন (২৬), সারোয়ার সিফাত (৩০), তানভীর আহাম্মেদ আশিক (২৬), সালাউদ্দিন (২৫), মো. রুবেল (৩০), রাকিব (২৬), ইসমাঈল (৩২), ফয়সাল (২৬), জুয়েল (২৬) ও আনোয়ার (২৫)। তারা সবাই হাজারীবাগ থানা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার সময় সন্ত্রাসীরা হেযবুত তওহীদ সদস্যদের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।