নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরের শান্ত জনপদ রামগতি। নদী ও সাগরঘেঁষা এই এলাকায় এখন মানুষের মুখে মুখে এক নাম—ফেরদৌস। হত্যা, ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরিসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি হয়েও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার ছত্রছায়াই তার বেপরোয়া চলাফেরার মূল কারণ।
মামলার জট, গ্রেপ্তার নেই
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে যাত্রাবাড়ী থানা-এ দণ্ডবিধির ৩০২/১৪৯ ধারায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার (নং-১১২) অন্যতম আসামি ফেরদৌস। এর আগে ২০১৭ সালে হাতিয়া থানা-এ ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে (৩৯৯/৪০২ ধারা, মামলা নং-২০) তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, যেখানে বর্তমানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (WA) বলবৎ রয়েছে। একই বছরে রামগতি থানা-এ মারামারি ও চুরির অভিযোগে (১৪৩/৩৭৯ ধারা, মামলা নং-১৬) আরেকটি মামলা দায়ের হয়।
একাধিক থানায় মামলা থাকলেও বাস্তবে তাকে গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।
প্রভাবের বলয়ে সুরক্ষা?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফেরদৌস নিয়মিত এলাকা পরিবর্তন করলেও প্রশাসনের ভেতরকার ‘গোপন আশ্রয়দাতার’ কারণে আগাম তথ্য পেয়ে যান। ফলে অভিযান শুরুর আগেই সরে পড়েন। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি প্রকাশ্যে ঘোরেন, কিন্তু ধরার সময় হলে হঠাৎ উধাও হয়ে যান।”
যদিও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।”
আতঙ্ক ও নীরবতা
ফেরদৌসের স্থায়ী ঠিকানা রামগতি উপজেলা-এর পূর্ব কালাকোপা গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি ও তার সহযোগীরা প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। সম্ভাব্য সাক্ষীরা ভয়ভীতির কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা
একজন আইনজীবীর ভাষ্য, “একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে দুর্বল করে।” বিশেষ করে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকলে তা জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
এ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলা ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হোক।