ইরাকি সেনার থেকে রামাদি শহরের দখল কেড়ে নেওয়ার পর শহরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মজবুত করে এখানেই ইরাকের মিলিত বাহিনী ও শিয়া গণমিলিশিয়ার সঙ্গে টক্কর নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইসলামিক স্টেট। সেই মতো কংক্রিট দিয়ে তৈরি বিস্ফোরণ নিরোধক মোটা দেওয়াল এবং প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্ক বাহিনীকে রুখে দিতে শহরের বাইরে মাইন ফিল্ড তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে তারা। শহর থেকে উঠছে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি। দু’দিন আগে শেষ হওয়া যুদ্ধের চিহ্ন সর্বত্র। তারই মাঝে ভারি ক্রেন ও বুলডোজার দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি মেরামতির কাজ। কোথাও চলছে পালিয়ে যাওয়ার আগে ইরাকি সেনার ফেলে দিয়ে যাওয়া ব্লাস্ট ওয়ালগুলি নতুন করে খাড়া করার কাজ। কোথাও বা বুলডোজারের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। এরই মাঝে শোনা যাচ্ছে লাউডস্পিকারে একটানা হুমকি। শহরের কোথাও ইরাকি সেনা বা পুলিশকর্মী বা সরকারি কর্মীরা লুকিয়ে থাকলে তারা যেন আত্মসমর্পণ করেন। হুমকিবর্ষণ চলছে নগরবাসীর উদ্দেশেও। তাদেরও জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, জেনে-বুঝে ইরাকি সেনা বা প্রশাসনকে সাহায্য করার পরিণতি হবে ভয়ানক। ইরাকি প্রশাসনের হাতছাড়া হওয়া রামাদির প্রধান ইসলামি ধর্মস্থান এবং সবক’টি প্রশাসনিক ভবনের ছাদ থেকেই উড়তে দেখা যাচ্ছে ইসলামিক স্টেটের কালো পতাকা। শহরের সর্বত্রই যাতে ইসলামি আইন বলবত্ করা হয় তার জন্য কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর ঘোষণা চলছে লাউডস্পিকারে। সংগঠনের সদস্যরা ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় টহল দেওয়া শুরু করেছেন। উদ্দেশ্য- ইসলাম-বিরোধী কোনো কাজ যাতে এই শহরে না হতে পারে। এরই সঙ্গে চলেছে সামান্যতম সন্দেহেই রামাদির বাড়ি বাড়ি ঢুকে অনুসন্ধান। জঙ্গিদের আশঙ্কা,শহরের মধ্যেই কোথাও হয়তো লুকিয়ে আছেন ইরাকি সেনার কোনও সদস্য। নগরবাসীদের একাংশ যে আহত সেনাদের সেবা করছেন এমন সন্দেহও করছে জঙ্গিদের একাংশ। রামাদি দখল করার পরদিনই শহরের সর্বত্র বিজয়মিছিল চালিয়েছে সশস্ত্র জঙ্গিরা। মিছিলে সামিল করা হয় ইরাকি সেনার ফেলে যাওয়া ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়িগুলিও। রামাদি থেকে পালানোর সময় সেনাবাহিনী যে বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র ফেলে গিয়েছে সেগুলি সবই দখল করেছে জঙ্গিরা। আইএস-এর থেকে রামাদি ফের কেড়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী হায়দর আল-আবাদি-র বড় ভরসা শিয়া গণমিলিশিয়া বাহিনী হাশিদ শাবি। ইতিমধ্যেই এই বাহিনীর একদল সদস্য ট্যাঙ্ক নিয়ে রামাদির উদ্দেশে এগিয়ে গিয়েছেন। প্রধানত সুন্নি আদর্শে বিশ্বাসীদের বাসভূমি রামাদি শহরে শিয়া বাহিনীর প্রবেশ করার সম্ভাবনা মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না ইরাকের বাসিন্দাদের একাংশ। সুন্নি-পন্থী আইএস জঙ্গিদের থেকে শিয়া মিলিশিয়ার নগর দখলের যুদ্ধে তাই ভয়াবহ রক্তপাত আশঙ্কা করা হচ্ছে।