রকমারি ডেস্ক:
বিশ শতকের গোড়ার দিকের ঘটনা। নতুন একটি জাহাজ নিয়ে সারা পৃথিবীতে তখন হইছই। জাহাজটি এতই বড় ও মজবুত যে এর নির্মাতারা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন স্বয়ং ঈশ্বরও এই জাহাজকে ডুবাতে পারবেন না! সমুদ্রে একটি পাটকাঠি ডুবে যাবে তবুও এই জাহাজ ডুববে না! জাহাজটির নাম টাইটানিক। অথচ সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রের ডুবন্ত একটি আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লেগে সমুদ্রের নীল জলে তলিয়ে যায় এই টাইটানিক। তাও আবার প্রথম যাত্রাতেই! দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটে ১,৫১৩ জন যাত্রীর। ভাগ্যবান ৬৮৭ জন যাত্রীর জীবন বাঁচলেও পরবর্তী জীবনে তাদের বয়ে বেড়াতে হয়েছে এই দুঃস্বপ্ন। বিশ্বের বৃহত্তম বিমা কেলেঙ্কারির শিকার টাইটানিক! আগে থেকেই মাঝ আটলান্টিকে এই জাহাজটিকে ডোবানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিপুণভাবে আঁকা হয়েছিল চিত্রনাট্য। বিমার টাকা পেতেই এই ষড়যন্ত্র করেছিল জাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি হোয়াইট স্টার লাইন। এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ঐতিহাসিক রবিন গার্ডিনার। টাইটানিক ডুবে যাওয়া নিয়ে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসলেও গার্ডিনারের কথায় আসল ঘটনা হলো একেবারেই অন্য। কী সেই আসল ঘটনা। গার্ডিনারের কথায়, আসল গল্পের সূত্রপাত ১৯০৭ সালে।মার্কিন উদ্যোগপতি জেপি মরগ্যান নতুন জাহাজ তৈরির জন্য তার কোম্পানি হোয়াইট স্টার লাইনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রথমেই অলিম্পিক জাহাজটির নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছিল। ১৯১১ সালে নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে বিশাল ক্ষতি হয় অলিম্পিক জাহাজটির। তবে, তদন্তে দেখা যায় অলিম্পিকের ভুলের জন্যই এই দুর্ঘটনা।নিট ফল-জাহাজটি মেরামতের জন্য আট লাখ ডলার দিতে অস্বীকার করে হোয়াইট স্টার লাইনের বিমা সংস্থা। আর অলিম্পিককে মেরামত করতে গেলে হোয়াইট স্টার লাইনের পক্ষে তাদের মূল আকর্ষণ টাইটানিককে সমুদ্রে নামানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। রবিন গার্ডিনারের কথা অনুযায়ী, এরপরই মাথায় এক ফন্দি আঁটেন জেপি মরগ্যান। টাইটানিকের ছদ্মবেশেই অলিম্পিককে সমুদ্রে ডোবানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। আর তার পরিকল্পনা সফল হলে ক্ষতিগ্রস্ত ওই জাহাজের জন্য বিমার পুরো টাকা পেয়ে যাবে তার সংস্থা। এর মধ্যেই হুবহু অলিম্পিকের মতো দেখতে টাইটানিক জাহাজটির নির্মাণও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। পরে অলিম্পিকের ছদ্মবেশে টাইটানিককে সমুদ্রে নামানোও সম্ভব হবে। আর সেই মতো ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ২,২০০ জন যাত্রী নিয়ে সাউথহ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে আরএমস টাইটানিকের নামে রওনা দেয় অলিম্পিক। যাত্রার চার দিনের মাথাতেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এই জাহাজ। তবে মরগ্যানের পরিকল্পনা মাফিক নয়। দুর্ভ্যাগ্যবশত বরফখণ্ডে ধাক্কা লাগে জাহাজটির। তিন ঘণ্টার মধ্যে তা তলিয়ে যায় সমুদ্রের নীল জলে। মৃত্যু হয় দেড় হাজার যাত্রীর। হোয়াইট স্টার লাইন যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য যে জাহাজ প্রস্তুত রেখেছিল তার থেকে অনেক দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গার্ডিনার তার এই দাবির সমর্থনে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, ১৯১১ সালে দুর্ঘটনার কবলে পড়া অলিম্পিক জাহাজটির মতো টাইটানিকেরও বাঁ দিকটা হেলে ছিল। এই দুর্ঘটনার কথা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। পাশাপাশি, গার্ডিনার তার মতের সপক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন, ১৯১০ সালে সমুদ্রে নামার আগে দু’দিন প্রচণ্ড গতিতে মহড়া দিয়েছিল অলিম্পিক। কিন্তু, দুই বছর পর তার থেকেও উন্নত জাহাজটি অনেক কম বেগে একদিন মহড়া দিয়েছিল। কারণ সেটি ছিল পুরনো ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ অলিম্পিকই। যার পরিকাঠামো পুরো ভেঙে পড়েছিল। বিমার টাকা আদায় করতে মরগ্যান যদি এই পরিকল্পনা না করতেন তাহলে বিশ্বের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত বলেই মত গার্ডিনারের। কিন্তু, এর মাঝেই জাহাজের ধ্ব
ংসাবশেষ থেকে তদন্তকারীরা যে হাল নম্বর পেয়েছে তা টাইটানিকের, অলিম্পিকের নয়। ফলে গার্ডিনারের এই দাবি কতটা সত্য তা নিয়েও সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।