আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি, বরিশাল:
মানুষের জীবনে বিভিন্ন ধরনের শখ থাকে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শখ কখনো কখনো জীবনের অর্থনীতির চাকাকে যে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্বসুজনকাঠী গ্রামের মো. লোকমান সরদারের ছেলে আগৈলঝাড়া ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির ছাত্র মো. সুজন সরদার। ছোটবেলা থেকেই সুজনের পশু-পাখি লালন-পালন করার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। পড়াশুনার পাশাপাশি সে কবুতর পালন করে এখন স্বাবলম্বী।
সুজন জানায়, পড়াশুনার পাশাপশি কবুতর পালন করে আমার লেখা পড়া চালানোর পরেও পরিবারে আর্থিক যোগান দিয়ে আসছি। লেখা-পড়ার ফাঁকে এই কাজ করতে ভালোই লাগে। এতে লেখা পড়ার কোন ক্ষতি হয় না। এটি একটি লাভজনক ব্যবসা তাই বেকার সমস্যা দূর করার জন্য আমি কবুতরের খামার করেছি। ২০০১ সালে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে একজোড়া কবুতর এনে লালন-পালন শুরু করে। আস্তে আস্তে সুজনের কবুতরের সংখ্যা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২৫০ এ দাঁড়ায় । স্থানীয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কবুতর ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জাতের কবুতর ক্রয়ের জন্য তার খামারে আসেন। সুজন সরদার জানান, তার খামারে গিরিবাজ কবুতর ১০ প্রজাতির, সিরাজী কবুতর ২ প্রজাতির, ময়ুর পঙ্খী, কিংসহ ২০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। অনেক প্রজাতির কবুতর থাকায় ক্রেতারা তার পছন্দ মত কবুতর কিনতে পারেন বিধায় তার খামারে কবুতর দ্রুত বিক্রি হয়। তিনি আরো জানান, খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য ব্যয় দিয়ে কবুতরের জন্য প্রতি মাসে ব্যয় হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। তার কাছে এক জোড়া কবুতরের দাম ১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। কিং নামে ২টি প্রায় ২০ হাজার টাকা। কালা সিরাজি ২টি ও লাল সিরাজি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কবুতরের খামার সুজনের বেকারত্ব দূর করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে।