বুধবার শপথ নেওয়ার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রথম কার্যদিবসে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিইসি। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের প্রথমেই কে এম এম নুরুল হুদা ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে নিয়োগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
কে এম নুরুল হুদা বলেন, “আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে শপথ গ্রহণ করেছি। সংবিধান ও সংবিধানের অধীনে প্রণীত আইনকানুন বিধিবিধানের ভিত্তিতে দায়িত্বপালনে অটল এবং আপসহীন থাকব। ”
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “সাংবিধানিক কাজে সরকারের প্রস্তাব বিস্তারের সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করব; কাজেই কারও দ্বারা প্রভাবিত হব না।
ইসির ওপর আস্থা রাখার বিষয়ে নূরুল হুদা বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও সবার আস্থা অর্জনে কাজ করে যাব। আমরা কাজের মাধ্যমে এমন অবস্থান সৃষ্টি করব, যাতে সবার আস্থা অর্জনে সক্ষম হব বলে আমি বিশ্বাস করি। ”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। কোনো দলের নির্বাচনী কাজেও আগে যুক্ত ছিলাম না। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই, দেশের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। এজন্য আমরা কাজ করে যাব। ”
এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকাল তিনটায় কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) শপথ নেন। নতুন এই ইসিকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। আর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এর আগে, সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট ইসি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। কমিশনের অপর চার সদস্য হলেন-সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। বুধবার তারা সবাই নেন।