দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার আফগানিস্তান সফরে গেছেন। বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার অঘোষিত সফরে দেশটিতে উপস্থিত হয়ে আফগানিস্তানের জন্য “টেকসই সাফল্য” চান বলে জানিয়েছেন কার্টার। সফরে তিনি আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার এবং দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রথম সফর হিসেবে আফগানিস্তানকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে কার্টার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে এখনো ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকায় এই দেশটি “সবসময় আমার মনে প্রথম আসে।” মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া কার্টার বলেছেন, “আফগানিস্তানে টেকসই সাফল্যের খোঁজে আছি আমরা।” “কীভাবে এটি করা যাবে, এটি করার সবচেয়ে সেরা উপায় কী, এসব বের করার জন্যই আমি এখানে এসেছি,” বলেছেন তিনি। আফগানিস্তানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে সেই সম্পর্কে সফরসঙ্গী সাংবাদিকদেরও কিছু জানাননি কার্টার। আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট’র (আইএস) তৎপরতার কোনো খবর পাওয়া গেছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে কার্টার বলেন, “যে সব প্রতিবেদন আমি দেখেছি তাতে তাদের সংখ্যা কম পাওয়া গেছে।” সফরে আফগান প্রেসিডেন্ট আশ্রাফ ঘানি, আফগানিস্তানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল জন ক্যাম্পবেল এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল লয়ড অস্টিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ডিসেম্বরে বিদেশি সেনারা আফগানিস্তানের যুদ্ধ মিশন শেষ করে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন, কিন্তু ছেড়ে যাওয়া দেশটি এখনও তালেবানের রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের মোকাবেলা করে যাচ্ছে। দেশটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ তদারকি ও পরামর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তানে মোতায়েন সেনার সংখ্যা ৫,৫০০’তে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলীয় সদস্যরা। আফগান প্রেসিডেন্ট ঘানিও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার বিলম্বিত হউক চান বলে জানিয়েছেন।