স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত ম্যাচের পর আবারো ভারতের মুখোমুখি হবার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অবধারিতভাবেই ঘুরে ফিরে আসছে রুবেল হোসেনের সেই বিতর্কিত নো বল ও শ্রীনিবাসন-কামাল দ্বন্দ। এমন অবস্থায় দুদলের লড়াই যে বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়াবেন এমন পাঁচ যোদ্ধার দিকে এক নজর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।
মুশফিকুর রহিম
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবথেকে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানের নাম মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি যাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘রান মেশিন’ নামে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোতে বড় অবদান ছিল তার অপারজিত হাফ সেঞ্চুরির(৫৬*) । ২০১২ এশিয়া কাপে তার ২৫ বলে ৪৬ রানের ক্যামিওর কল্যাণে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো বাংলাদেশ। ২০১৪ এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে করছিলেন সেঞ্চুরিও, যদিও সেবার জেতাতে পারেননি দলকে। সদ্যসমাপ্ত পাকিস্তান সিরিজে ওয়ানডে সিরিজে রান করেছেন অবিশ্বাস্য ১১০ গড়ে। মুশফিককে নিয়ে তাই আলাদা করে ভাবতেই হবে ভারতীয় দলকে।
তামিম ইকবাল
তামিম ইকবালের নাম নিতেই সবার আগে মনে ভেসে ওঠে ২০০৭ বিশ্বকাপে জহির খানকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে তার হাকানো সেই ছক্কা। ২০১২ এর এশিয়া কাপেও তামিমের ৭০ রানের ইনিংসের ভিত্তির উপর ভর করেই ভারতের ২৮৯ রান টপকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো বাংলাদেশ। বিশ্বকাপটা খুব একটা ভাল না কাটলেও পাকিস্তান সিরিজে টেস্ট ও ওয়ানডে দুটিতেই ফিরেছেন পুরো ছন্দে। নিঃসন্দেহে ছন্দে থাকা তামিম ইকবাল পৃথিবীর যেকোন বোলিং আক্রমণের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরি করে হঠাৎ করেই তারকাখ্যাতি পেয়েছেন এমনিতে পাদপ্রদীপের আড়ালেই থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। স্টার স্পোর্টস তাকে মনে করছে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দলের নতুন নেতা। শুরুতে একটু দেখে শুনে খেলে লম্বা ইনিংস খেলার অভ্যাস তার সবচেয়ে বড় শক্তি। হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলার পর আউট হতে তার যেন বড্ড অনীহা। ওয়ানডেতে ১২ টি হাফ সেঞ্চুরির ১০ টিতেই তাকে আউট করতে পারেনি বিপক্ষ দল, অপরাজিত ছিলেন দুই সেঞ্চুরির একটিতে। তাই তাকে একবার সেট হবার সুযোগ দিলে সেই ভুলের চড়া মাশুল গুনতেই হবে ভারতীয় দলকে।
সাকিব আল হাসান
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা অলরাউণ্ডার সাকিব আল হাসান। ব্যাটে বলে সমানভাবে যেকোন দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন তিনি। এর সাথে আছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দুবার আইপিএল শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা। ভারতীয় দল খুব ভালভাবেই জানে, সাকিবকে সামলাতে না পারার বিপদ কতোটা ভয়াবহ হতে পারে!
মুমিনুল হক
টেস্ট ক্রিকেটে তাকে বাংলাদেশের ডন ব্রাডমান বললেও অত্যুক্তি হবে না। সর্বশেষ ১১ টেস্টেই খেলেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। অপেক্ষায় আছেন ডি ভিলিয়ার্সের টানা ১২ টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ড ছোঁয়ার। ৪টি টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে ৩টিতেই ছিলেন অপরাজিত। সর্বোচ্চ ইনিংস ১৮১। ওয়ানডে ও টি২০তে তাকে ভুলে থাকলেও একমাত্র টেস্টটিতে মুমিনুলকে সামলাতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হবে ভারতীয় বোলারদের। আর মাত্র ৭ দিনের মাথায় শুরু হয়ে যাবে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি। জমজমাট এক লড়াইয়ের অপেক্ষায় সাগ্রহে প্রহর গুণছে সারা বাংলাদেশ।