শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
দেশে চায়ের উৎপাদন আশানুরূপ বাড়ছে না। গত চা উৎপাদন মৌসুমে (২০১৪) পূর্ববর্তী বছরের (২০১৩) তুলনায় চা উৎপাদন ১৭ লাখ ৮০ হাজার কেজি কম হয়েছে। ২০১৩ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৭২২ কেজি। আর ২০১৪ সালে চা উৎপাদন হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪৯ কেজি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চা বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা রয়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখ কেজি। প্রতিবছর দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে ৩.২৩ শতাংশ হারে আর উৎপাদন বাড়ছে ২ শতাংশ হারে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য দেশে চা উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
সূত্র জানায়, দেশের ১৬৬টি চা বাগানে বর্তমানে ৫৮ হাজার৭১৯ হেক্টর জমিতে চা আবাদ হচ্ছে। হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ১ হাজার ৩২০ কেজি। অন্যদিকে দেশে চা চাষযোগ্য অনাবাদী জমি রয়েছে ৪ হাজার ৬৯৮ হেক্টর। এ অনাবাদী জমি চা চাষের আওতায় এলে দেশে প্রতিবছর ১ কোটি ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদন সম্ভব।
এ ছাড়াও বর্তমানে পুরোনো চা গাছ (অতি বয়স্ক) ও অলাভজনক ৯ হাজার ৪ শত হেক্টর জমিতে চা উৎপাদন হয় প্রতি হেক্টরে মাত্র ৪৮২ কেজি। এসব জমিতে উন্নত জাতের ক্লোন চা রোপণ করে সঠিক ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে ১ কোটি ৯০ লাখ কেজি চা উৎপাদন করা যেতে পারে বলে চা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চা শিল্পের ৃউন্নয়নে ১২ বছর মেয়াদী একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ভিশন-২০২৫ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে চা উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ১০ কোটি কেজি। তখন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে চা বিদেশে রপ্তানি সম্ভব হবে বলে আশা করছে চা বোর্ড।