স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের শুরুতে টানা তিনমাস হরতাল অবরোধে ব্যবসায়ী মন্দা সত্ত্বেও দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পেতে ঈদের আগেই উৎসব ভাতাসহ বেতন পরিশোধের তাগিদ অর্থনীতিবিদের।
এদিকে, সময় মতো বেতন বোনাস পরিশোধে কারখানা মালিকরা নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানালেও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, শ্রমিক অসন্তোষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কাজ শুরু করেছেন তারা।
অপেক্ষার এই মুখ, ঈদের আগে বেতন বোনাস না পাওয়া পোশাক শ্রমিকের। এই অবস্থান ধর্মঘটও তাদের, ঈদের পর বকেয়া পরিশোধের দাবিতে। বিজিএমইএ’র হিসেব মতে, গত দুই ঈদে রাজধানীসহ আশপাশ এলাকার তিন হাজারের বেশি কারখানার মধ্যে সময় মতো উৎসব ভাতাসহ বেতন পরিশোধ করতে পারেনি তোবা গার্মেন্টস, আকিক অ্যাপারেলসহ কয়েকটি কারখানা।
এমন দু’একটি ঘটনাও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে শতভাগ কমপ্ল্যায়ান্স ইস্যুতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে। তাই এবার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কারখানা মালিকদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।
অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘অন্তত তিন মাস আগে এই প্রস্তুতিটা নেয়া উচিত। কারণ, আমরা জানি যে সামনে একটি ঈদ আছে। এবং সেই ঈদে কতজন শ্রমিকের কি পরিমাণ বেতন-ভাতা দিতে হবে তার হিসেবটা করে ফেলতে হবে। আমি মনে করি, মালিক তার নিজের স্বার্থেই এবং দীর্ঘমেয়াদে কারখানায় ভাল পরিবেশের স্বার্থেই উনি এটা করবেন।’
তবে, চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন মাসের হরতাল-অবরোধের কারণে ব্যবসায়িক মন্দা সত্ত্বেও সময় মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানালেন কারখানা মালিকরা।
আকিক অ্যাপারেলস লিমিটেডের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘ঈদের সময় এক মাস কাজ করে ওভার টাইমসহ প্রায় দেড় মাসের বেতনের মতো দিতে গেলে অনেক কষ্ট হবে। তারপরও ব্যবসার খাতিরে না করে উপায় নেই। সেই ক্ষেত্রে আমাদের আলাদা ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।’
এদিকে, বিজিএমইএ বলছে ঈদের আগেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কারখানাগুলোকে সব ধরনের নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল।
বিজিএমইএ-এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের বিজিএমইএ-তে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলছি। আমরা মনে করি, প্রতিটি কারখানায় ইতোমধ্যে আমরা বার্তা দিয়েছি। আমাদের বিজিএমইএ’র যারা কর্মকর্তা আছে তারা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে গেছে।’
আসছে ঈদে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন বোনাস সময় মতো পরিশোধে প্রস্তুত পোশাক কারখানার মালিকরা। তবে তাদের এই শতভাগ প্রস্তুতির কতটুকু কার্যকর হল তা সময়ই বলে দিবে এসব শ্রমিকের হাসিমাখা স্বতঃস্ফূর্ত মুখে।