আজ বৃহস্পতিবার গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
শোলাকিয়ায় বোমা হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের দিনে যারা মানুষ খুন করে এরা ইসলামের কেউ নয়, পরকালে এদের ঠাঁই বেহেশতেও হবে না, এমনটাই কোরআনের বিধান।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য গণভবনের মাঠে স্থাপিত প্যান্ডেলে ঠিক ১০টায় উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমেই তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তার পর গণভবনের দ্বার খুলে যায় সর্বস্তরের মানুষের জন্য। ধনী-গরিব, শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী সবাই। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে অনেকে নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও আসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের দেখা করতে।
ওই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছে। কিন্তু কিছু বিপথগামী ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করে ইসলামেরই বদনাম করছে।
অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের কেউ যদি বিপথগামী হয় তাহলে যেন তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের কথাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ছাড়াও রেডিও, টেলিভিশনসহ সকল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, রমজান মাসে এবাদতের সময় যারা হত্যার মিশনে যায় তাদের চেয়ে জঘন্য অপরাধী আর কেউ হতে পারে না। নামাজ না পড়ে মানুষ খুন করা কোন ধরনের ইসলাম? ঈদের জামায়াত শুরুর আগে যারা হামলা চালায় তারা কি আদৌ মুসলামান? প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটসহ নানা প্রযুক্তিগত সুবিধা দিয়েছি মানুষের ব্যবহারের জন্য, তাদের কাজ সহজ করার জন্য, কোনও জঘন্য অপরাধ সম্পাদনের জন্য নয়।
রাজধানীর গুলশানে রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে জঙ্গিদের প্রতিহত করতে পেরেছি। জিম্মিদের মধ্যে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতেও পেরেছি।