কারওয়ান বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারের পাশে হাসিনা মার্কেটে লাগা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২৬টি ইউনিট কাজ করছে।
রোববার সন্ধ্যার পর ঝড়-বৃষ্টি শেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে হাসিনা মার্কেটে আগুন লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এরপর দফায় দফায় ফায়ার সার্ভিসের ২৬টি ইউনিট প্রচেষ্টা চালিয়ে ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এনায়েত উল্লাহ।
ফায়ার সার্ভিসের ডিজি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে দাহ্য পদার্থ ছিল, আর জায়গাটাও ভীষণ অন্ধকার, এছাড়াও পানির স্বল্পতাও ছিল। এসব কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয়েছে।’
এর আগে সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।
কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে নিশ্চিত বলা না গেলেও হোটেলে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের লাইন থেকে অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা প্রত্যক্ষদর্শীদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিকভাবে কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজারের পাশে হাসিনা মার্কেটের একটি দোকানে আগুন লাগে। পরে তা মুহূর্তেই পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়াতে সংশ্লিষ্ঠদের দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। দমকল বাহিনীর গাড়িতে পর্যাপ্ত পানি ছিল না বলেও অভিযোগ তাদের। তারা বলছেন, পানির সঙ্কটের কারণেই আগুন এতটা ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া এই মার্কেটে বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ছিলো। সেখানে গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যাচ্ছে। পানি সংকটের কারণেও আগুন নেভাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তারা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, ভেতরের দিকে সবগুলো দোকানই পুড়ে গেছে। বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি ছাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আজ মে দিবসের ছুটি থাকায় মার্কেটটি প্রায় ফাঁকাই ছিল। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, মার্কেটটি কাঁচামালের আড়ত। এখানে সর্বমোট ৩৯৬টি দোকানের বেশিরভাগগুলোতেই শুকনো মালামাল রয়েছে। আগুনে ব্যবসায়ীদের নানারকম মালামালের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই মার্কেটে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দোকান, লেপ-তোষক ও খাবার হোটেলের দোকান ছিলো। আগুনে সব দোকান পুড়ে গেছে।

Comments (0)
Add Comment