কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মধ্যযুগীয় কায়দায় এক যুবককে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতিত আলমগীর হোসেন (২৮) এখন নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, যুবকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন আছে। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২সন্তানের জনক আলমগীর হোসেনের বাড়ী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের লক্ষ্মীকান্ত গ্রামে। তার বাপের নাম পনির উদ্দিন। তিনি দীর্ঘদীন ধরে হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নুর ইসলামের মেয়ে নুর নাহারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল।
আলমগীর হোসেন জানান, মাঝে কিছুদিনের জন্য তিনি ঢাকা চলে যান এবং এক সপ্তাহ আগে মেয়েটি তার কাছে আসে।
মেয়ের বাবা নূর ইসলাম মেম্বার জানান, আমি ঘটনাটি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান সরকারকে জানলে। চেয়ারম্যান মেয়ে ছেলেকে ফেরত আনার জন্য ৫০হাজার টাকা দাবি করলে ২০হাজার টাকা দেন। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন আলমগীরকে ঢাকা থেকে নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে আসে।
গত ২৮ডিসেম্বর চেয়ারম্যান আলমগীরের হাত-পা ও গলায় লোহার শিকল পড়িয়ে পুরুষাঙ্গে ইট বেঁধে বেধরক মারপিট করে বাড়িতে আটকে রাখে। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থেকে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমগীর হোসেনকে চেয়ারম্যানের ঘরে হাত-পা ও শিকল বাধা অবস্থায় দেখতে পায়। সাংবাদিকরা ঘটনাটি থানায় জানালে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ বিকালে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
পরে থানা পুলিশ আলমগীরের অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে দ্রুত নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘মেয়েটি নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্রী। তাকে ভুল বুঝিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ ওই ছেলেটির স্ত্রী ও ২টি সন্তান আছে। আমি তাকে নির্যাতন করেনি। গ্রামবাসী কিছু উত্তম মধ্যম দিয়ে আমার বাড়ীতে রেখে গেছে। এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাঈদ বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
#