কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে ৬ লক্ষাধিক বানভাসীর। নৌকা, কলাগাছের ভেলা ও বাঁশের মাচানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে হাজার হাজার বানভাসী। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বানভাসীরা।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ার চরের আমেনা বেগম জানান, ১৫-১৬ দিন থেকে দুর্ভোগে আছি। ছোওয়া-পোয়াক খাওয়াইতে পারি না। রান্না করতে পারি না। ঘরত খাবার নাই। কোন বার এতদিন পানিতে বাড়ী-ঘর তলিয়ে থাকে এর আগে দেখি নাই। টানা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে জেলার ২ হাজার ১শ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৬৮ ইউনিয়নের ৬ শতাধিক গ্রাম। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে রৌমারী, রাজিবপুর, উলিপুর, চিলমারী ও সদর উপজেলা। রৌমারী উপজেলার ৩ টি বাধ ও ২টি পাকা সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলার ৯ উপজেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন সম্পুর্ণ রুপে পানিতে তলিয়ে আছে।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শওকত আলী জানান, ৫০ হাজার হেক্টরের মধ্যে ৩৬ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত সম্পুর্ণরুপে নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, বানভাসীদের জন্য এ পর্যন্ত ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার এবং সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টায় হেলিক্যাপ্টার যোগে এসে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রান বিতরনের কথা থাকলেও তিনি আসেননি।
বাংলাদেশেরপত্র/এডি/আর