গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, বন্যা দুর্গত মানুষের চরম দূর্ভোগ

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা: ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি মঙ্গলবার বিপদসীমার ৫৬ সে. মি. এবং বালাসী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৫০ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে ডুবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরিতাবাড়ি চরের দোলন মিয়া নামের দু’বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বন্যা কবলিত জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে পানিবন্দি প্রায় ৩ লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার, গবাদি পশু সংরক্ষণ, পশু খাদ্য সংকট ও পয়ঃনিস্কাশন সংকটে পড়েছে।
ফুলছড়ির কাতলামারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধেও ফাটল ধরায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষার চেষ্টা করছে। গাইবান্ধার ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধও এখন হুমকির মুখে। মানুষ রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিচ্ছে। কেননা বাঁধ ভেঙ্গে গেলে গোটা জেলা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, গজারিয়া, ফজলুপুর, এরেন্ডাবাড়ি, উড়িয়া ও ফুলছড়ি সদর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
জেলার ৪টি উপজেলার কয়েক হাজার পানিবন্দী মানুষ তাদের সহায়সম্পদ নিয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁেধ আশ্রয় নিয়েছে। তবে সরকারিভাবে জেলার পানিবন্দী মানুষদের জন্য ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় ১৫৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাকির জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে কুন্দেরপাড়া বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আমিরুল ইসলাম জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় জেলার ৮২টি বিদ্যালয় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যা এবং অতি বৃষ্টিতে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৭শ’ ১২ হেক্টর জমির শাক সবজি, আমন বীজতলা, রোপা আমন ও আউশ ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য ফসলি জমি তলিয়ে গেছে ৬শ’ ৬৭ হেক্টর।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ৫০ মে. টন চাল, নগদ ৪ লাখ টাকার শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যার্ত এলাকায় গিয়ে পানিবন্দী মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং যেকোন ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন।
ত্রাণের জন্য ভানবাসী মানুষজন জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিলেও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না থাকায় তবে কিছুই করতে পারছেন না। অন্যান্য বছরে এনজিও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ত্রাণ সহায়তা করলেও এবছর কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ভানবাসী মানুষের জন্য সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং আরোও বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment