গ্রিসে জনরোষে ঋণ গ্রহণ-সিদ্ধান্ত বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অবশেষে আন্দোলনের মুখে কিছুটা বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি কিছুটা নমনীয় হলেন গ্রিক রাষ্ট্রপতি অ্যালেক্সেই সিপ্রাস। শাসনক্ষমতায় আসার প্রারম্ভে তার নীতির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো রাস্তায় নামতে হয়েছিল গ্রিকদের। সিপ্রাসের ‘আপোসকামী’ নীতির কারণে জার্মানি আরও একটি ঋণপ্রদানের জন্যে আঁটঘাট বাঁধতে যাচ্ছিল জার্মানি। পূর্বে নতুন কোনো ঋণ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও ইউরোজোনের ক্রমাগত অসহযোগিতায় আলোর মুখ দেখতে পারছিলেন না তিনি। জার্মানির এই নীতির কাছে অসহায় হলেও জনগণের চাওয়ার প্রেক্ষিতে আবারও পুরনো আদর্শে ফিরে এসেছেন সিপ্রাস। তিনি বলছেন, আমাদের হাতে এখনও আরও চার মাস আছে ঋণ পরিশোধের জন্যে। সুতরাং তৃতীয়বারের মতো ঋণগ্রহণ অপ্রয়োজনীয়। তবে মন্ত্রীপরিষদকে সামনের দিনগুলোতে কঠোর পরিশ্রমের নির্দেশ দেন তিনি। জানা যায় গ্রিসের অর্থনীতি এ মুহূর্তে তাদের এতোখানি শোচনীয় অবস্থা ধারণ করেছে যে এরে ঋণের পরিমাণ দেশের মোট জিডিপির ১৭৫ শতাংশে পরিণত হয়েছে। গ্রিস ২০১০ সাল থেকে বিগত সরকারের শেষাবধি দুটি দেউলিয়া-ঋণ গ্রহণ করেছে। এর মূল্যমান ২৪ হাজার কোটি ইউরো। চলতি মাসের শেষদিন তথা ২৮ ফেব্র“য়ারি ছিল এই ঋণ পরিশোধের শেষ সময়। কিন্তু জার্মানি এ সময়সীমা আরও চার মাসের জন্যে বৃদ্ধি করেছে। জার্মান পার্লামেন্টে গ্রিসকে আরও এক দফা দেউলিয়া ঋণ প্রদানের স্বপক্ষে একটি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গ্রিসের রাজধানীর রাজপথ প্রতিকূল হয়ে ওঠে। জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছিল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চাপের মধ্যে থেকেও দুই কূল রক্ষা করতে পেরে (দাতা ও দেশীয় জনগণ) কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নবাগত গ্রিক রাষ্ট্রপতি। ইউরোনিউজ টিভিতে এক সাক্ষাতকার প্রদনা করেন তিনি। সেখানে বলেন, ‘জার্মান সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আস্থাভোট প্রদান করেছে। ইউরোপ এবার এক নতুন গ্রিসকে অবলোকন করবে। অগ্রবর্তী ইউরোপের সাপেক্ষে অগ্রবর্তী গ্রিসকে সামনে নিয়ে আসার জন্যে কঠোর পরিশ্রমে নামবো আমরা।’ এ মুহূর্তে ইউরোজোনের মধ্যে জার্মানির অবস্থান কেমন তা জ্ঞাতব্য। জার্মানি দাতারাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে, ইউরোজোনের আর কোনো রাষ্ট্র এখনও পর্যন্ত তা পারেনি। সুতরাং ইউরোজোনের ঋণপ্রদান, গ্রহণ ও তদসংক্রান্ত আইন-অনুবর্তিতা অনেকটাই জার্মানির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

Comments (0)
Add Comment