চাইলে বোলাররাও ম্যাচ জেতাতে পারে: মাশরাফি

 স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট:
টি২০ ম্যাচ মানেই ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে চার-ছক্কার ছড়াছড়ি। ব্যাটসম্যানরা যেমন ব্যাটে ঝড় তোলেন তেমনি আবার বোলাররাও ডট কিংবা বোল্ড করে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বোকা বানিয়ে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বিশ্বাস, টি২০ ম্যাচে বোলাররাই সব সময় ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করেন। টি২০ ক্রিকেট মানে ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিং এক প্রদর্শনী। তাছাড়া দর্শকরাও ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সব সময় চার-ছক্কার মার দেখতে পছন্দ করেন বেশি। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফির বিশ্বাস, অন্যখানে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে মাশরাফি বলেছিলেন, ম্যাচ জেতায় বোলাররা। শনিবারও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০ ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে একই কথা আবারও বললেন তিনি। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা দলে রয়েছেন, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফ্যাফ ডু প্লেসিস ও কুইন্টন ডি ককেরমত আক্রমণাÍক ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বোলারদের প্রতি আস্থা রেখে মাশরাফি বলেন, ‘তবে আমি এখনও মনে করি চাইলে বোলাররাও ম্যাচ জেতাতে পারে। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের কথা বলতে পারি। তাদেরমত দল কিন্তু ৩০৭ অহরহ চেজ করছে। যে কোন দল তিনশ’ বা তার বেশি রান তাড়া করে জিতছে এখন। ওই ম্যাচে বোলারদের কারণেই আমরা জয় পেয়েছি। আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো পারফর্ম করছে। কিন্তু আমি এখনও মনে করি, বোলাররাই পারে টি২০ ম্যাচ জেতাতে। ধরেন, কোনো দল যদি ২০০ করে ফেলে সেটা আমাদের জন্যে খুব কঠিন হবে। কিন্তু আমরা যদি ১৫০-১৬০ এর ভেতর রাখতে পারি তাহলে বোলারদের সুযোগটা থাকবে। আর তখন বোলাররাই ম্যাচ জেতাতে পারবে।’ পাকিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে পেস বোলিংয়ে বিশেষ এক পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। এবার প্রোটিয়াদের বিপক্ষেও তেমন পরিকল্পনা করেই মাঠে নামতে চায় টাইগাররা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পেস বোলিংয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে না বললেও এবার অতিথি দলের বিপক্ষে স্পিন অ্যাটাকে তাদেরকে ঘায়েল করতে চায় স্বাগতিকরা। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে শেষ দশ-পনের বছর আমরা সব সময় স্পিনের উপরই নির্ভর করেছি। শেষ কয়েকটা সিরিজেও। তবে জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে পেস বোলিং নিয়ে কিছুটা পজিটিভ চিন্তা করেছি, তারই সুফল এখন পাচ্ছি। যদিও আমাদের মূল শক্তি  স্পিনেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলে এখন যারা পেসার আছে, তারা স্পিনের সঙ্গে সমানতালে ভালো করছে। তারাও এখন দলের জন্য অনেক অবদান রাখছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পেস না স্পিন অ্যাটাক হবে সেটা এখনও আমার ঠিক করে উঠতে পারিনি। চেষ্টা করবো সেরা শক্তি নিয়েই যেন ঠিক করতে পারি। আর বাদ বাকিটা মাঠে কেমন খেলি সেটা পরে দেখা যাবে।’
মাশরাফির ভাষ্য, ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল বিশ্ব ক্রিকেটে দারুণ একটি জায়গা করে নিয়েছে। অথচ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সেভাবে এখনও নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। সংক্ষিপ্ত ভার্সনের এ ক্রিকেটে ভালো করতে হলে প্রচুর পরিমাণে টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলা চাই। কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে পর্যাপ্ত পরিমাণে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আয়োজন খুব একটা করে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যে কারণে এই ফরম্যাটে এখনও অনেক পিছিয়ে টাইগাররা। এ কারণেই সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা আক্ষেপ ঝরে পড়ল টাইগার দলপতির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো সেভাবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলারই সুযোগ পাই না। ফলে এ ফরম্যাটে আমাদের ভালো করাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিয়ে সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওদের বেশিরভাগ ক্রিকেটার যে পর্যায়ে খেলে আমাদের কোনো ক্রিকেটার কিন্তু সে পর্যায়ে খেলে না। এমনকি আমাদের ঘরোয়া লিগেও টি-টোয়েন্টি খেলার কোনো সুযোগ নাই। যে কারণে আমাদের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পায় কম। এই জায়গায় থেকে অনেক কিছু মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতকিছু যদি আমরা এখনই চিন্তা করি তাহলে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।’ আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়াভাবেও বাংলাদেশ খুব বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় না। যতো বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ঠিক ততোটাই এ ফরম্যাটের ক্রিকেটে উন্নতি করবে বাংলাদেশ দল। এ বিষয়ে স্বাগতিক অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমাদের রেকর্ড ভালো নয়। কারণ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আমরা খুবই কম খেলি। আমাদের মাঝে শুধুমাত্র একজন টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছে। যে সারাবিশ্বে খেলে, সাকিব। আর ওদের তো আট থেকে দশজন ক্রিকেটার রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বে টি-টোয়েন্টি খেলে বেড়াচ্ছে। ওদের দলে অনেক তরুণ ক্রিকেটারও আছে। এ জায়গাতেই তারা এগিয়ে। তবে এটা শুধুই পরিসংখ্যান। মাঠে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, তাহলে খেলাটা অবশ্যই অন্যরকম হবে।’
পেস আর স্পিন, যে শক্তি নিয়েই হোক আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর একটায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই সিরিজকে সামনে রেখে উভয় দলই কঠোর অনুশীলন করেছে। বাংলাদেশ চায় ঘরের মাটিতে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সিরিজটা নিজেদের করে নিতে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা এই সিরিজটি জিতে বিশ্বকাপে হারের বেদনা ভুলতে চায়। এ জন্য উভয় দলই শক্ত একাদশ সাজাচ্ছে। তাহলে দেখে নেয়া যাক, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়তে কালকের ম্যাচে বাংলাদেশ দলের একাদশে কারা থাকতে পারেন।

Comments (0)
Add Comment