মধুখালী প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ফরিদপুর চিনিকলের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে চন্দনা নদীতে সংরক্ষিত মাছের অভয়ারণ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। চিনিকল কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও অবহেলায় চলতি ২০১৪-১৫ আখ মাড়াই মৌসুমের শুরু থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত দূষিত পানিতে চিনিকল এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়।
চিনিকলটিতে বর্জ্য শোধনাগার কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত বর্জ্য সংরক্ষণাগার না থাকায় গত ফেব্র“য়ারি মাসে বর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি লোকালয়ে এবং চিনিকলের কলোনিতে ঢুকে পড়ে। এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষ ঘটা করে ব্লিচিং পাউডার ও ফিটকারি ছিটিয়ে পানি শোধনের ব্যর্থ চেষ্টা করে বিফল হয়। এদিকে চিনিকলটির কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে চন্দনা নদী। নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও মাছের অভয়ারণ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চন্দনা-বারাশিয়া নদী পুনঃখনন করা হলে মৎস্য বিভাগ কর্তৃক চন্দনা নদীকে মাছের অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নদীতে চিনিকলের বর্জ্য নিঃসরণের ফলে সম্প্রতি সবধরণের মা মাছ অসুস্থ হয়ে ভেসে উঠায় স্থানীয় জনগণ কুড়িয়ে নিয়েছে। ছোট প্রজাতির অনেক মা মাছ মারা গেছে বলে মৎস্য অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
মধুখালী উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চন্দনা নদীর মধুখালী অংশে ৪টি অভয়াশ্রম নির্ধারণ ও সংরক্ষণে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ফলে ঐ সব অভয়াশ্রমে প্রচুর পরিমাণে দেশি প্রজাতির মাছ ছিল। এপ্রিল মাস দেশি প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম হলেও তার আগেই মা মাছ মারা যাওয়ায় এ বছর এলাকায় দেশি মাছের আকাল দেখা দেবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
এদিকে মৌসুমী বৃষ্টি শুরু হলে নদী থেকে দূষিত পানি পার্শ্ববর্তী খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চিনিকলের রসায়নবিদ তরিকুল ইসলাম বলেন, চিনিকলের বর্জ্যে মাছের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি মনে করেন।