ছিটমহলের পূর্ণ স্বাধীনতা এলেও মানবতার কাছে হেরে গেলেন নুরজাহান বেগম!

রমজান আলী, পাটগ্রাম:
যুগে যুগে পরিবর্তনের আলোয় আলোকিত হচ্ছে পৃথিবী। সভ্যতার বিকাশে জাগ্রত বিবেকে বদলে যাচ্ছে মানুষ। আর মানুষ হয়ে মানুষ যখন পাষন্ড পশু থেকে নিকৃষ্ঠ হয় তখন হারমানে মানবতা ও বিবেক। ঠিক এমন এক বাস্তব চিত্রের জীবন যাপন করছেন পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের সদ্য বিলপ্ত ১১২ নং বাশঁকাটা ছিটমহলের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম(৬৬)। তিনি ৭১’র রক্তাক্ত বাংলাদেশ দেখেছেন। দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবমুক্ত অন্ধকার জীবনের অবসান শেষে আলোকিত বাংলাদেশও পেলেন কিন্তু ফিরে পেলেন না তার ন্যায্য অধিকার। স্বামী হারা নুরজাহান জীবন যাপনের তাগিদে তাগিদে ছুটা ছুটি করে বৃদ্ধ বয়সেও ঠাঁই হচ্ছে না কোথাও মমতাজ উদ্দীনের ২য় স্ত্রী নুরজাহান বেগমের।
জানা যায়, মৃত মমতাজ উদ্দীন এর মালিকাধীন মোট সম্পত্তি ৭৫ একর। ১ম স্ত্রী আকিয়া বেগম ৫ ছেলে ৪ মেয়ে রেখে মৃত বরণ করলে মৃত মমতাজ উদ্দীন নুরজাহান বেগম ২য় বিয়ে করেন। মমতাজ উদ্দীনের মৃত্যুর পর ২ মেয়ে লাকী(৩০) ও আখি(২৬)কে নিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছেন নুরজাহান বেগম। উত্তরাধিকার সুত্রে নুরজাহান বেগমের প্রায় ৯ এককর জমির মালিকানা থাকা সত্বেও আজ আশ্রয়হীন তিনি। সম্পত্তিগুলো জোর পূর্বক দখল করে আত্মসাতের পায়তারা করছেন সৎ ছেলে আরিফ হোসেন(৫৫), আওলাদ হোসেন(৪২), জাহিদ হোসেন(৪৫) ও আবেদ হোসেন(৪৭) সকলের পিতা মৃত মমতাজ উদ্দীন। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাবে নুরজাহান বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে সম্পতি দখলসহ হত্যার চেষ্ঠা চালায়। ঘটনা বুঝতে পেরে তার প্রথম জামাতা ফরমান আলী তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নুরজাহান বেগম ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। তিনি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় সংবাদ ও গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট সহযোগীতা চেয়ে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন কান্নায় ভেঙ্গে পরে বলেন, ”মুইকী মানসি নোহাং মোর টাকা পাইসা নাই দেখি মোরকী কপালত সঠিক বিচারও নাই। তোমরা মোর কথা শেখ হাসিনাক কবেন মোর যেন জমিগুলা উদ্ধার করিয়া মোক যেন বাঁচায়।” বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এমপি জানতে পেরে পাটগ্রাম থানা অফিসার ইনর্চাজ অবনী শংকর করকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শ দিলে তিনি এ বিষয়টির তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভুমি) টিএম মমিন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রাক জরিপে নুরজাহান বেগমের হিশসা সম্পত্তি খতিয়ান ভুক্ত হয়েছে । কিন্তু সম্পর্ত্তির লোভে পড়ে তার সৎ ছেলেরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে জমি দখলদারিত্ব না দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করছে । এ ঘটনায় তার পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী প্রসাশানের সঠিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নুরজাহান বেগমের ন্যায় বিচার দাবি করেন ।

Comments (0)
Add Comment