‘জঙ্গির’ ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পাঁচ জঙ্গির ছবির মধ্যে একজনের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এ তরুণ জঙ্গি নয়, হোটেলের বাবুর্চি ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এদিকে ছয় জঙ্গি মারা গেলেও পাঁচজনের ছবি প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

গুলশানে হামলার পর সাইট ইন্টেলিজেন্স আইএসের বরাত দিয়ে পাঁচজঙ্গির ছবি প্রকাশ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছবিতেও তাদের কয়েকজনের চেহারায় মিল ধরা পড়ে। কিন্তু একজনের ছবিতে রয়েছে ভিন্নতা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, নিহত পাঁচ জঙ্গি একসাথে বাগানে পড়ে আছে। প্রত্যেকের গায়েই টি-শার্ট, প্যান্ট ও ক্যাডস। সাদা গেঞ্জি পরা একজন থাকলেও সেখানে সাদা শার্ট পরা কেউ ছিল না। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন করে প্রকাশ করা পাঁচটি ছবিতে সাদা শার্ট পড়া একজনকে জঙ্গি হিসেবে দাবি করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু শুয়ে থাকা পাঁচ জঙ্গির একজনের ক্লোজড ছবি কোথাও প্রকাশিত হয়নি। ফলে সাদা শার্ট পরা লোকটিকে অনেকেই হোটেলের বাবুর্চি দাবি করে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
একটি ভিডিওটিতে দেখা যায়, জঙ্গিরা কয়েকজনকে জিম্মি করেছেন। সেখানে সাদা শার্ট পড়া একজন বাবুর্চি রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, জিম্মি এ তরুণকেই জঙ্গি বলা হচ্ছে।রিয়াদুল হাসান নামের একজন ফেসবুকে কয়েকটি ছবি দিয়ে প্রশ্ন করেছেন, ‘এও কি জঙ্গি?’
তিনি লিখেছেন, ‘দুটো ছবি প্রকাশিত হয়েছে নিহত জঙ্গিদের। দুটোতেই পাঁচজন মানুষ আছেন। কিন্তু একজন মানুষ আনকমন।’
তার দাবি, ‘সাংঘাতিক এ বিষয়টি খেয়াল না করেই প্রচার করা হচ্ছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ বলছে ৬ হামলাকারী মারা গেছে। কিন্তু লাশের ছবি প্রকাশ করছে ৫ জনের। বহুত ডালই কালা হ্যায়।’
এদিকে আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে নিহত হন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। তিনি সেথানে পিৎজা বানানোর কাজ করতেন।
হামলার খবর শোনার পর থেকেই তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এখনো লাশ বাড়ি পৌঁছায়নি। কখন পৌঁছাবে তাও বলতে পারছেন না কেউ। লাশ বাড়িতে না পৌঁছালেও আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীসহ শত শত লোক বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।
রোববার দুপুরে সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আকতার (২৭) তার দুই কন্যা সামিয়া (১০)ও ইমলিকে (৭) নিয়ে আহজারি করছেন। পাশের কক্ষে মা সমেরা বেগমের (৭০) আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

Comments (0)
Add Comment