জেল ভেঙে বন্দিকে হত্যা নাগাল্যান্ডে ১৪ জনকে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নাগাল্যান্ড সরকার রোববার ধর্ষক মামলায় আটক এক বন্দিকে হত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিক্ষুব্ধ জনতা ডিমাপুর শহরের সেন্ট্রাল জেলে হামলা চালিয়ে ওই বন্দীকে হত্যা করে। এদিকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে নিহত ফরিদ খানকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী  বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন নিহত ফরিদের ভাই জামালউদ্দিন খান। তিনি ফরিদের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার পরই ওই ১৪ জনকে আটক করা হল। রাজ্যটিতে এখনো গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ সম্পর্ক নাগাল্যান্ড পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৈয়দ ফরিদ খানের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করার কাজ চলছে। তাদের শীঘ্রই আটক করে বিচারের আওতায় আনা হবে। নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী টিআর জেলিয়াং শনিবার বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এসব রটনা থেকে নানা সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়তে পারে। শনিবার গণপিটুনিতে নিহত ফরিদ খানের লাশ ওইদিনই তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে নাগাল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। তার মৃতদেহ আসামের করিমগঞ্জ জেলার খটখটি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফরিদের মৃতদেহ পৌঁছানোর পর তার নিজ এলাকাতেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ৪ হাজারের মত বিক্ষুব্ধ জনতা ডিমাপুর সেন্ট্রাল জেলের দুটি ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ধর্ষণ মামলায় আটক ফরিদকে উলঙ্গ অবস্থায় বের করে আনে। এ সময় গণপিটুনিতে প্রাণ হারান ফরিদ। ঘাতকরা তার নিধর দেহটি ডিমাপুরের ক্লক টাওয়ারে ঝুলিয়ে দেয়। সেখান থেকে পুলিশ পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

Comments (0)
Add Comment