ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট ইউনিয়নে হামদহডাঙ্গা বিল দখল করে মাছ চাষ করছে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। আর এতে সমস্যায় পড়েছে বিল পাড়ের ৩ গ্রামের মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামদহডাঙ্গা, কল্যাণপুর ও পুর্ব কৃষ্ণপুর গ্রামের মাঝে অবস্থিত প্রায় ৪’শ একর জমির উপর অবস্থিত হামদহডাঙ্গা বিল। ওই বিলে রয়েছে ৩ গ্রামের কৃষকের জমি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সেই জমি দখল করে মাছ চাষ করছে পুর্ব কৃষ্ণপুর গ্রামের একোব্বার মোল্যার ছেলে সিদ্দিক মোল্য, লোকমান হোসেনের ছেলে আশরাফ হোসেন, নুর মোহাম্মদ এর ছেলে মোজাম্মেল হক, আবু মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া, সাত্তার মন্ডলের ছেলে আলতাফ হোসেন।
এর ফলে বিলের পাশের আবাদকৃত জমি তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষককেরা। এছাড়া ব্রীজের মুখে চরাট দিয়ে বাধ দিয়েছে।
হামদহ ডাঙ্গা গ্রামের সিরাজ উদ্দিন মন্ডল নামের এক বৃদ্ধ জানান, হামদহ ডাঙ্গা বিলে তার ১০ বিঘা জমি রয়েছে কিন্তু প্রভাবশালীরা তার জমিতে চাষ করতে দিচ্ছে না।
পুর্বকৃষ্ণপুর গ্রামের মেম্বর তাইজুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসী প্রকৃতির ওই লোকগুলোর কারণে তাদের এলাকার অনেক মানুষ আজ বাড়ী ছাড়া। এখন বিল দখল করে মাছ চাষ করছে। কৃষকেরা জমিতে চাষ করতে গেলে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একই অভিযোগ করেন ওই গ্রামের আজাহার মন্ডল। তিনি বলেন, কতিপয় ওই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বিল দখল করে মাছ চাষ করছেন। তাদের কারণে কৃষক জমিতে চাষ করতে পারছেন না। কৃষকেরা যদি জমি চাষ করতে যায় তাহলে তারা তাদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারছে না। নিজেদের জমি চাষ করতে প্রশাসনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
কল্যাণপুর গ্রামের কৃষক মমিন জোয়ার্দ্দার, তসির বিশ্বাস জানান, হামদহ ডাঙ্গা বিলে যে জমি রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু কিছুদিন হলো বিলের মাঝখান দিয়ে ক্যানাল তৈরী করে বিলে মাছ চাষ করছেন সিদ্দিক মোল্য, আশরাফ হোসেন, মোজাম্মেল হক, শামীম মিয়া, ও আলতাফ হোসেন। জমিতে চাষ করতে গেলে তারা কৃষকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নিজের জমিতে পাট জাগ দিতে গেলে তারা বাধা দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আশরাফ হোসেন জানান অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আমার নিজের জমিতে আমি মাছ চাষ করছি। সে কারণে বাধ দিয়েছি। কোন কৃষককে চাষাবাদ করতে বাধা দেওয়া হয় নি।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন জানান, বিষয়টি আমাকে ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। আমি ঢাকাতে ট্রেনিংয়ে থাকায় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।