ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হলেও শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের পরিমাণ আবারো বাড়তে থাকে। সাড়ে ১২টা থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর সাড়ে ৩টা) মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট রয়েছে। মহাসড়কের এই অংশে থেমে থেমে গাড়ি চলছে।
ফলে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ২-৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৬-৭ ঘণ্টা। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে নারী ও শিশু।
জুয়েল আহমেদ নামের এক মাইক্রোবাস যাত্রী বলেন, ‘সকাল ৬টায় রাজশাহী থেকে রওনা হয়েছি। দুপুর ৩টার সময় নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত আসতে পেরেছি। অন্য সময় হলে এতোক্ষণে ঢাকা থাকতাম।’
সালমা নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ থেকে ভোরে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ভেবেছিলাম সকালে গিয়ে কাজে যোগ দিবো। কিন্তু এখনও পৌঁছাতেই পারলাম না। আজকে কাজে যাওয়া হলো না। ঈদের পর প্রথম দিনেই বেতন কাটা যাবে। আর যে সময় যানজটে বসে থাকতে হচ্ছে, আগামী দুইদিনে সুস্থ হয়ে কাজে যেতে পারবো বলে মনে হয় না।’
বগুড়া থেকে একতা পরিবহণের রশিদ মিয়া নামের এক বাস চালক বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টায় রওনা হয়েছি। ১ঘণ্টা ধরে নাটিয়াপাড়াতেই বসে আছি। গাড়ি যাচ্ছেও না, আসছেও না।’
মহাসড়কে দায়িত্বরত টাঙ্গাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন সরকার বলেন, ‘মহাসড়কে চন্দ্রা থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত যানজট রয়েছে। তবে নাটিয়াপাড়ার পর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রাস্তা স্বাভাবিক রয়েছে। গতরাতে বৃষ্টি হওয়ায় এই যানজটের সূত্রপাত। এছাড়া সকালে বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়া আর ছোট ছোট যানবাহন এলোপাথাড়ি চলায় দুপুরে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।’