তাহিরপুরে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ

তাহিরপুর প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:
বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ। হাওরাঞ্চলে বসবাসরত জনগণের চাহিদা মেটাচ্ছে পুকুরে চাষকৃত পাঙ্গাস, কই, তেলাপিয়া। হাওরের রাজধানী তাহিরপুরে দেশের ২য় বৃহত্তম রামসারার সাইট মাদার ফিসারিজ টাঙ্গুয়া হাওরের অবস্থান। টাঙ্গুয়া হাওরের পাশাপাশি শনি, মাঠিয়ানসহ ছোট বড় ২৩টি হাওর রয়েছে এ উপজেলায়। সেই সাথে অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল জলাশয়ও রয়েছে। এ সমস্ত হাওর বাওর জলাশয় বছরে ৭-৮ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। কোন-কোনটি বছর জুড়েই পানিতে জলমগ্ন থাকে। তাহিরপুর উপজেলা জুড়ে বিশাল জলরাশি থাকলেও হাওর-বাওর জলাশয়ে দিন-দিন কমে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। জেলেদের অভিযোগ ইজারাদাররা বিল লিজ নিয়ে বিল সেচ দিয়ে মৎস্য আহরণ করে মাছের বংশ ধ্বংস করছে। অপরদিকে ইজারাদাররা বলছে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারীরা বেড়জাল, কারেন্টজাল দিয়ে ছোট-ছোট পোনা মাছ অবাধে নিধন করায় দিন দিন দেশি প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে ।
সরজমিনে হাওরাঞ্চলে বাজার তাহিরপুর, আনোয়ারপুর, বালিজুরি, কাউকান্দি, সুলেমানপুর, লামাগাও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুকুরে চাষকৃত পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, কই মাছে বাজার সয়লাব। দেশি মাছ নেই বললেই চলে। সামান্য দেশি মাছ কোন জেলে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসলে দশ ক্রেতা মাছ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। সে সুযোগে জেলেরাও দাম হাকেন আকাশ ছোঁয়া যা সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের জয়পুর গ্রামের জেলে নুরুজ্জামান বলেন, গত ৫ বছর পূর্বে টাঙ্গুয়ার হাওরের যে কোন স্থানে ঘণ্টা খানেকের জন্য জাল ফেললে দু’তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করা যেত। কিন্তু গত বছর সারাদিন জাল পুঁতে রাখলেও কোন মাছের দেখা মিলে না।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের এখলাছুর রহমান তারা ও মধ্য তাহিরপুর গ্রামের সুশেন বর্মন বলেন, পরিবার পরিজনের জন্য প্রতিদিনই মাছ, ডাল, শাকসবজি কিনতে বাজারে যাই কিন্তু প্রায়ই দেশি মাছ না পেয়ে পুকুরের চাষকৃত মাছ কিনে বাড়ি ফিরি।
তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ শরীফুল আলম বলেন, শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অসাধু মৎস্য শিকারীদের দমন করা যায় না এ ক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে ।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি বেসরকারিভাবে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড করে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে সেই সাথে পোনামাছ ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।

Comments (0)
Add Comment