ব্যুরো অফিস, রংপুর:
তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সকল জমিতে পানির দাবিতে বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উদ্যোগে ১৯ ফেব্র“য়ারি রংপুর থেকে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে রোডমার্চ করেছে।
গত কাল সকাল ১০টায় রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে রোডমার্চ যাত্রা শুরুর পূর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, কমরেড ওবায়দুল্লাহ মুসা, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য কমরেড মঞ্জুর আলম মিঠু, রংপুর জেলা কমিটির সদস্য পলাশ কান্তি নাগ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা সমন্বয়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলু। এরপর রোডমার্চ রংপুর নগরীর প্রধান সড়ক অতিক্রম করে পথিমধ্যে মেডিকেল মোড়, পাগলাপীর, গঞ্জিপুর, চন্দনের হাটে পথসভায় মিলিত হয়। এরপর দুপুরে বড়ভিটায় আহার গ্রহণ ও সমাবেশ শেষে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে যাত্রা করে। সর্বশেষ নীলফামারী জেলার জলঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে রোডমার্চের সমাপ্তি ঘটে।
নীলফামারী জেলা সংগঠক আব্বাস আলীর সভাপতিত্বে জলঢাকার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উল্লেখিত স্থানসমূহে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাসদ (মার্কসবাদী) দিনাজপুর জেলা সমন্বয়ক রেজাউল ইসলাম সবুজ, পঞ্চগড় জেলা সমন্বয়ক তরিকুল আলম, বগুড়া জেলা সমন্বয়ক শামসুল আলম দুলু, কুড়িগ্রাম জেলা সমন্বয়ক মহিরউদ্দিন, রংপুর জেলা কমিটির সদস্য আহসানুল আরেফিন তিতু প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দরা বলেন, ভারত সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের প্রায় সব কয়টি নদীর উজানে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে। ফলে সেচ মওসুমে তীব্র পানির সঙ্কট, আবার বর্ষা মওসুমে ভয়াবহ বন্যা বাংলাদেশের জন্য প্রতি বছরের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে শুকনো মওসুমে ভারত কর্তৃক একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে আমাদের দেশের নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাটসহ গোটা উত্তরাঞ্চল আজ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি, মরুকরণের ঝুঁকিতে সমগ্র অঞ্চল। ভূ-পৃষ্ঠের পানি সঙ্কটে ভূ-নিম্নস্থ পানির উপর নির্ভরশীল হচ্ছে খাবার, গোসল, সেচ প্রভৃতি কাজ। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আর্সেনিক সমস্যা, নদীর নাব্যতা, মৎস্যজীবীদের সঙ্কট, জলবায়ু, জীব-বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে। তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমির বেশির ভাগই গত বছর সেচ সুবিধা পায় নি। গত বছর যতটুকু পেয়েছিল এবছর তাও নেই। বর্তমানে তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীনে কোন জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প আয়োজন যারা করছে, তাদের বিঘা প্রতি বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে প্রায় ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা। যাদের বিকল্প আয়োজনের সামর্থ্য নেই তারা পড়ছে বিপাকে।
অন্যদিকে বর্ষা মওসুমে ভারত বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়, যার ফলে বিপুল পানির স্রোতে ঘর-বাড়ি, ফসলের ক্ষেত ডুবে যায়। নদীর ভাঙ্গনে চাষের জমি, বসতবাড়ী, হাট-বাজার, স্কুল নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ফলে তিস্তা আজ আমাদের আশীর্বাদ না হয়ে হয়েছে অভিশাপ।
এ অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ তিস্তাসহ অভিন্ন সকল নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সকল চাষের জমিতে প্রয়োজনীয় পানি, গত বছর পানি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ, পানি না থাকায় তিস্তা পাড়ের বেকার মৎস্যজীবীদের কাজ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান নেতৃবৃন্দরা।
রোডমার্চ থেকে আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের শেষে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর তিস্তা চুক্তি সংক্রান্ত স্মারকলিপি পেশ করা হবে।