এরদোগান বলেন, এই আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা সন্ত্রাসীদের দমনে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর সংকল্পকেও আরো সুদৃঢ় করবে।তুরস্কের একটি প্রধান পরিবহন কেন্দ্র কিজিলাই জেলায় অবস্থিত গুভেন পার্কে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১২৫ জন আহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এফকান আলা বলেন, সোমবার এ ব্যাপারে একটি তদন্ত শেষ হবে এবং এই ঘটনার সঙ্গে যারা দায়ী তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার না করলেও সরকার এই ঘটনার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-কে সন্দেহ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্কে কুর্দি বিদ্রোহীরা ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপও সম্প্রতি আঙ্কারায় হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর এরদোগান এক বিবৃতিতে বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বেসামকির লোকের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কারণা তারা তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হেরে যাচ্ছে। জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, তুরস্ক ভবিষ্যত হামলা প্রতিরোধে তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশবাসীর চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এটা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ। এই যুদ্ধ সফলভাবেই শেষ হবে এবং আমরা সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করবই।’
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার মতে, প্রধানমন্ত্রী আহমেত ভাজুতোগলু এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তার জর্দান সফর বিলম্বিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার নিন্দা জানান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের ন্যাটোভুক্ত মিত্র তুরস্কের সঙ্গে আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্বের বিষয়টি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করছি।’
ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের জঘন্য সহিংসতার কোন ন্যায়সঙ্গত যুক্তি থাকতে পারে না।’ স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলার আশঙ্কার পুরো এলাকা খালি করে দেয়া হয়। এএফপি।