দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে হারবাল চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা:দেখার যেন কেউ নেই

এসএম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত জনপদে ইউনানী-আয়ুর্বেদ, ভেষজ, হারবাল ও কবিরাজি দাওয়াখানা চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা ও টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপকৌশল। নিরীহ সহজ-সরল অসহায় মানুষ তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় প্রচুর অর্থএসব দেখার যেন কেউ নেই। আর এসব ভূয়া চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বন্ধে সরকারি কোন সংস্থা উদ্যোগ নিচ্ছে কথিত হারবাল সেন্টার গুলোতে চিকিৎসা নিয়ে রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দূরের কথা, উল্টো অপচিকিৎসার শিকার হয়ে শারীরিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। আর এ ধরনের হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে কতিপয় ব্যক্তি ও ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এলাকার অলিগলির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচারপত্রে এসব চিকিৎসক যৌন দুর্বলতার চিকিৎসার নামে পুরুষ ও মহিলাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা প্রথমেই হরেক রকমের বাহারি চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে লোভে ফেলার অপচেষ্টা চালায়।এদিকে এসব কথিত হারবাল সেন্টারগুলো ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে মহৌষধের দোকান খুলে বসে আছে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব চিকিৎসালয়ের সংখ্যা কত? ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া এধরনের কতগুলো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে? জানা গেছে এসব বিষয়ে কোন পরিসংখ্যান নেই ওষুধ প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে। এ পরেও সব রোগের চিকিৎসা গ্যারান্টি সহকারে, স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে, কুরুচিপূর্ণ প্রচারপত্র বিলি করে ও ক্যাবল টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রামীণ জনপদের এক শ্রেণীর হতাশাগ্রস্ত ও দিশেহারা সহজ-সরল মানুষদের কাছে টানার চেষ্টা চালায়।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২০০টিরও বেশি ইউনানী, হারবাল ও কবিরাজী দাওয়াখানা। প্রত্যন্ত জনপদের নিরীহ অসহায় মানুষ এসব অনুমোদনহীন ভুয়া চিকিৎসকদের ওষুধ খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষগুলো বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছে। না।উল্লেখিত বিভিন্ন অখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো পোষ্টার, প্রচারপত্র বিতরণ করছে বিভিন্ন যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও জনসমাগম এলাকায়। এসব ওষুধের সরকারিভাবে কোন প্রকার মান নির্ণয় করা হয় না। আর এসব বিষয়ে সংশি¬ষ্ট সরকারি কোন সংস্থাও জানে না। এদিকে ভেষজ ও আয়ুর্বেদ ওষুধের নামে মেশানো হচ্ছে যৌন উত্তেজক নিষিদ্ধ ট্যাবলেট।আর এসব ওষুধে কি মেশানো হচ্ছে তা সাধারণ জনগণ কিছুই জানে না। অথচ এসব ওষুধ খেলে কিডনি, চোখ, হৃদরোগসহ নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে খুব সহজেই। বিবাহিত পুরুষরা সন্তান জš§ দেয়ার ক্ষমতাও হারাতে পারেন। ওষুধ প্রশাসন আর সরকারি কোন সংস্থার অনুমোদন নেই এসব ওষুধের। ওষুধের প্যাকেট কিংবা বোতলে নেই কোন ট্রেড মার্ক। সচেতন মহলের মতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ও আশপাশের এলাকার যত্রতত্র গড়ে উছেছে সরকারি অনুমোদনহীন বিভিন্ন করিরাজী ভেষজ, আয়ুর্বেদ ও হারবাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। আর এসব ভূয়া চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বন্ধে সরকারি কোন সংস্থা উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাংলাদেশেরপত্র/এডি/আর

Comments (0)
Add Comment