দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে রাণীশংকৈলের কালামের সাফল্য

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের মোঃ কালাম (২৯) সৎ কর্মে দারিদ্রতাকে হার মানিয়েছে। সংসার জীবনে এনেছে সাফল্য। সুন্দর সুশ্রী চেহারার যুবক। পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ড ভান্ডারা গ্রামের বাসেদ আলীর ছেলে। বসতভিটার ৮ শতাংশ জমি। এ ছাড়া কোন আবাদি জমি জমা নাই। অভাবি সংসার হাতে টাকা পয়সা নাই বললেই চলে। একজন সৎ মনের মানুষ। কোন অসৎ কাজে নয় সৎ কর্ম করে রুজি উপার্জন করতে হবে এমন চিন্তা তার মনে। কোন রকমে ৩৫০ টাকা জোগাড় করে বারভাজা, আচার বিক্রীর ব্যবসা হাতে নেয়। সেখান থেকে শুরু হয় উন্নতির। অতি কষ্টে ভ্যানগাড়ি তৈরী করে ব্যবসায় সুবিধাজনক অবস্থায় আসে। হাতের সুন্দর নিশানা বারভাজা তৈরীতে। বিভিন্ন রকম মসলার মিশ্রনে তৈরী করে রুচিকর বারভাজা। সন্ধ্যা হলেই পাবলিক লাইব্রেরী এলাকা, প্রগতি ক্লাব চত্বরে তার দেখা মিলে ক্রেতাদের সঙ্গে। ব্যবসার শুরু থেকে এলাকায় জায়গা হয়ে যায়। সন্ধ্যা বেলা কালামের হাতের বারভাজা, আম-তেতুল-বরই-জলপাইয়ের আচার না খেলে যেন তৃপ্তি আসেনা। ভিড় জমাই ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ সহ সর্বস্তরের মানুষ। সবার কাছে অতি পরিচিত মানুষ হয়ে উঠেচে। সব সময় হাসি খুশি থাকে। চেহারায় বিরক্তির কোন ছাপ নেই। সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যালগ্ন থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকে তার এই ব্যবসায়। ভ্যান গাড়িতে গুটি কয়েক বোয়মে ভাজা ছোলা, চিনা বাদাম, চানাচুর, মুড়ি এমন অনেক রকম খাবার জিনিস সাজানো থাকে। যে যার মতো অর্ডার দিয়ে খায়। কেউ এসে বলে ভাই ৫ টাকার বারভাজা দেন আবার কেউবা ১০ টাকার বারভাজা কিংবা আচার। কেউ যদি তাড়া করে সুন্দর মুচকি হেসে বলে এই দিচ্ছি। খুব সহজে যেন ক্রেতাকে আয়ত্বে করে নিতে পারে। মন খারাপ থাকা লোকটিও যেন তার সাথে মুচকি হেসে ফেলে। যতক্ষণ বিক্রী করতে থাকে অনর্গল হাত চলতে থাকে মেশিনের মতো। ছোট একটি চাকু দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে পিয়াজ-মরিচ-লেবু কেটে নেয়া কোন ব্যাপার না। মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে দুই- আড়াই হাজার টাকার বিক্রী হয়ে থাকে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ শত টাকা লাভ টিকে। তাতে স্বাাচ্ছন্দে সংসার চলে কোন অসুবিধা হয়না। সংসারে স্ত্রী আর দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শেণির ছাত্রী। টাকায় ১০ শতক জমি কিনেছে। জমি কেনার সময় এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়েছিল। সংসার চালিয়ে এখন তা নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে কোন অসুবিধা হয়না। আলাপকালে কালাম জানায়, মানুষ বিকাল বেলা অলস সময় কাটায়। কেউ চায়ের দোকানে বসে, কেউ তাস খেলে আবার কেউ জুয়া খেলে বা অন্যভাবে। আর আমি এ সময়টুকু ব্যবসার মাধ্যমে পার করি। সারাদিন বাড়ির কাজ কর্ম করি। সন্ধ্যে বেলা বাজারে চলে আসি। এতে আমার বাজে সময় কাটেনা, আয় হয়। এখন আমার সংসারে অভাব নাই। আমি সৎ কর্ম করে সংসার চালাই আল্লাহর কাছে লাখ শুকরিয়া। বিডিপত্র/আমিরুল

Comments (0)
Add Comment