দিনাজপুরে অজ্ঞাত রোগে ২১ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু

দিনাজপুর : দিনাজপুরে চলতি মাসে (জুন)  অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে । এতে অসুস্থ হয়েছে আরো পাঁচজন। এ ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা প্রচণ্ড খিঁচুনি ও কাঁপুনিসহ নিস্তেজ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়।

চিকিৎসকরা একে অজ্ঞাত রোগ বললেও রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) বলছে, বর্তমানে লিচু বাগানে ২৩ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরেও কিছু অপরিচিত কীটনাশক ব্যবহার করছেন চাষীরা। এছাড়া এন্টি ফাঙ্গাল, গ্রোথ হরমোন নাম দিয়ে আরও কিছু রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আইইডিসিআর আরো জানায়, দেড় থেকে ৬ বছর বয়সী এই শিশুরা গত ২৯ মে থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, নিহত শিশুরা কীটনাশক ছিটানো লিচু বাগানের আশপাশে গিয়ে বিষে আক্রান্ত হয়েছিল। মৃত শিশুদের রক্ত ও লিচু পরীক্ষায় বিষাক্ত কীটনাশকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, ওই শিশুদের বাড়ি ও লিচু বাগান পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে তাদের মৃত্যুর কারণ কীটনাশক মিশ্রিত লিচুর সংস্পর্শ বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

মাহমুদুর রহমান জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে যে ওই শিশুদের প্রত্যেকের বাড়ি লিচু বাগান সংলগ্ন। তারা লিচু বাগানে বিচরণ করেছে, লিচু খেয়েছেও। ওসব লিচু বাগানে ব্যাপক মাত্রায় কীটনাশক ছিটানো হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আবদুল ওয়ারেস জানান, ২৯ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে ১২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়, যাদের ১১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত শিশুরা রাতে ঘুমানোর পর চিৎকার করে কেঁদে উঠে। এরপর তাদের খিঁচুনি শুরু হয়।হাসপাতালে ভর্তির ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুরা হলো, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার জুরাই গ্রামের জোবাইদুর রহমানের মেয়ে জেরিনা খাতুন (৫), সদর উপজেলার মাধবমাটি গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে সামিউল ইসলাম (২), একই এলাকার রুবেল হোসেনের ছেলে মো. সাকিব (৩), বিরল উপজেলার নুরপুর গ্রামের মো. আলম হোসেনের মেয়ে মিনারা পারভীন (২), বীরগঞ্জ উপজেলার ধুলট দাসপাড়ার গজেন চন্দ্র দাসের ছেলে ফুল কুমার দাস (২), একই এলাকার সেনপাড়ার আব্দুল হকের মেয়ে শামিমা আক্তার (৫), সনকা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মামুন (৬), সাদুল্লাপাড়ার রবি চানের ছেলে স্বপন আলী (৫), কাহারোল উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের জিয়ারুল ইসলামের মেয়ে ইয়াসমিন (৪), চিরিরবন্দর উপজেলার ভগনবাড়ী গ্রামের আমানুল হকের ছেলে আবু সায়েম (৪) ও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের সাগরের মেয়ে জয়বুন নেছা (৩)।

তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা। এর আগে ২০১২ সালেও লিচু বাগানে ছিটানো কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় ২২ দিনে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে।

Comments (0)
Add Comment