ঢাকা : গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে তুলে নেয়ার চারদিন পর লাশ মিললো আব্দুর রহমান চঞ্চল হত্যা মামলার প্রধান আসামি মমিন বক্স (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীর।
পুলিশ জানিয়েছে, রোববার ভোরে পল্লবীর বাউনিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নতুন রাস্তার ঢাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে পল্লবী থানা। মমিন পুলিশের খাতায় একজন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র আইনে এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে।
পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে কালো দাগ ও জখম রয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
নিহতের মামা মনোয়ার হোসেন সুমন জানান, গত ৮ জুলাই মোহাম্মদপুর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে মমিনকে তুলে নেয়া হয়। মমিন রড-সিমেন্টের ব্যবসার পাশাপাশি জমিজমা কেনা বেচার কাজ করতেন।
ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। তবে কারা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মমিন নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।’
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, ‘তারা থানায় এসেছিল নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাতে। তবে তারা কোনো মামলা করতে চায়নি।’
মমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে মমিনের বিরোধ চলছিল। গত ২৯ জুন কোর্টে মমিনের ভাগনি লাবনী বেগম চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে পল্লবী থানার দুই এসআইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার আসামি পুলিশের দুই এসআই হলেন- জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও জুবায়ের হোসেন।
উল্লেখ্য, মমিন বক্স মিরপুরের বঙ্গবন্ধু কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আব্দুর রহমান চঞ্চল হত্যা মামলার প্রধান আসামি। গত ১৪ মে মমিন বক্সের সহযোগীরা প্রতিপক্ষের লোক ভেবে আক্রমণ করে চঞ্চলকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে জানা যায়।