পঞ্চগড়ে নারী নির্যাতন মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে নারী নির্যাতন মামলায় ফিরোজ (২৮) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আদালত ভিকটিমের জন্ম দেওয়া কন্যা সন্তানের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণ-পোষণের জন্য আসামিপক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা আদায় করে ভিকটিমকে দেবে বলে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।

বুধবার  বিকেলে পঞ্চগড় সিনিয়র জেলা জজ ও নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমএ নুর এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ফিরোজ জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার কাউরগছ এলাকার হানিফ উদ্দিনের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার কাউরগছ এলাকার হানিফ উদ্দিনের ছেলে একই এলাকার সজির উদ্দীনের মেয়ে কুলসুম নেছাকে (১৭) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে কুলসুম গর্ভধারণ করলে সে ফিরোজকে বিয়ে করতে বলে। ফিরোজ তাকে বিয়ে করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে আসতে বলে। সেই অনুযায়ী কুলসুম ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ফিরোজের বাড়িতে এলে বাড়ির লোকজনসহ ফিরোজ তাকে বেধরক মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুমকে তার পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় কুলসুম ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ফিরোজসহ তার পরিবারের ১১ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা চলাকালে প্রতারণার শিকার ওই তরুণী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। রায়ে আদালত ওই সন্তানের ভরণ-পোষণের জন্য আসামিপক্ষের কাছ থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা আদায় করে ভিকটিমকে দেবে বলে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মীর হারুন অর রশিদ ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পঞ্চগড় আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। মামলার অন্যান্য ১০ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

মামলাটি বাদীপক্ষে পরিচালনা করেন পাবালিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান।

Comments (0)
Add Comment